টাঙ্গাইলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে হাইব্রিড জাতের ভুট্টার আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে বৃহৎ পরিমাণের কৃষকরা পেয়েছেন বিনামূল্যে ভুট্টার বীজ ও সার। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ ফসলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জেলার ১২টি উপজেলায় বিশেষ করে চরাঞ্চলজুড়ে এখন শুধু ভুট্টার উঠতি চারা শোভা পাচ্ছে। ভালো ফলনের আশায় কৃষকরাও আগ্রহে জমিতে কাজ করছেন।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে কৃষি বিভাগ ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে সাত হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ৭৭৬ হেক্টর বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ছয় হাজার ৭৫০ কৃষককে দুই কেজি করে মোট ১৩ হাজার ৫০০ কেজি ভুট্টার বীজ দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে। এছাড়াও ২০ কেজি করে ডি.এ.পি সার এবং ১০ কেজি করে এম.ও.পি সার দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এ মৌসুমে বৃহৎ পরিমাণের কৃষক ভুট্টার প্রণোদনা পেয়েছেন।

কৃষকরা জানান, গত বছর বাজারে ভুট্টার দাম বেশি থাকায় অধিক লাভবান হয়েছেন। এ কারণে প্রণোদনা কর্মসূচির বাইরেও অধিক পরিমাণের কৃষক তাদের জমিতে এ মৌসুমে ভুট্টার আবাদ করেছেন। এছাড়াও ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি ও ফলন ভালো করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষকরা আরো জানান, নদীবেষ্টিত বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকরা রবি মৌসুমে গত কয়েক বছর যাবৎ আগাম জাতের হাইব্রিড ভুট্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চরাঞ্চলে অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়। কম পরিশ্রম ও কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গমের পাশাপাশি ভুট্টার ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুট্টা গো-খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়। তাছাড়া পোল্ট্রি শিল্পের জন্যও ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এক বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় ৪০ থেকে ৪৫ মণ। বিঘা প্রতি আট থেকে দশ হাজার টাকা খরচ করে চাষিরা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করতে পারেন। চলতি রবি মৌসুমে জমিতে ফলনের আকৃতি ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এখন জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক কৃষক ভুট্টার জমিতে সাথী ফসল হিসেবে শীতকালীন শাক-সবজিরও আবাদ করছেন।

ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের ভুট্টা চাষি মোস্তফা বলেন, এ বছর বন্যায় আমাদের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ সব ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এর ফলে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হই। আর এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বন্যা পরবর্তী সময়ে যমুনার বুকে জেগে উঠা চরে আমরা ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টা চাষে খরচ অনেক কম। এ আবাদে লাভ অনেক বেশি। আশা করি, ভুট্টা চাষ করে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ভুট্টা চাষি লতিফ বলেন, এখানকার মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী হওয়ার আমাদের চরাঞ্চলে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়। এ বছর আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। আশা করছি, বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ মণ ফলন পাবো। গত বছর চরাঞ্চলে ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় এ বছর অধিক জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। আমার দেখাদেখি যারা অন্য ফসল আবাদ করতেন তারাও এবছর ভুট্টা চাষ করেছেন।

দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারহানুল কবির বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন ফসল হিসেবে কৃষক যেন চাষাবাদের ক্ষেত্রে সমস্যায় না পড়েন সেজন্য আমরা সরাসরি কৃষককে সঠিকভাবে ভুট্টা চাষ করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিচ্ছি। ভুট্টায় বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ করলে সেগুলো দমনে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরও ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে সাত হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৭৬ হেক্টর বেশি।

তিনি আরো জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সব সময় ভুট্টার রোগ-পোকমাকড় দমন ও অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap