মধুপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। আর এটি দেখতে বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী লক্ষাধিক মানুষ ছুটে এসেছেন।

বর্ণিল এ আয়োজনে খুশি ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শনার্থীরা। আগামীতে আবারও এমন আয়োজনের দাবি তাদের। এদিকে আয়োজক কমিটি প্রতিবছরের মতো আগামীতেও এমন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক ঘোড়া অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সোনিয়া নামে এক মেয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। দৌড় চলাকলে শতাধিক ঘোড়ার হ্রেষা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়েছে মধুপুরের আকাশি এলাকার ঘোড়দৌড়ের মাঠ। প্রতিযোগীদের সবার লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত এলাকায় আগে পৌঁছে যাওয়া।

আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় কালের বির্বতনে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য স্থানীয়দের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আর এই ঘোড়দৌড় দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বয়সের বিনোদনপ্রেমী লক্ষাধিক নারী-পুরুষ। ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবার উৎসবে মেতে ওঠে স্থানীয়রা। সকাল থেকেই প্রতিটি বাড়ি আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুবান্ধবদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। এ সময় অনেক বাড়িতেই আয়োজন করা হয় নানা রকমের পিঠাপুলি।

আবার এ ঘোড়দৌড় উপলক্ষে সকাল থেকেই বসেছে গ্রামীণ মেলা। বাহারি খাবারসহ নাগরদোলা, হোন্ডা খেলাসহ নানা রকমের রাইডসের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে শিশু-কিশোরসহ এখানে আসা নানা বয়সী মানুষের বিনোদনের কোন কমতি ছিল না। দুপুর গড়াতেই কয়েকটি গ্রুপে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। লাখো মানুষের বিনোদনের জন্য প্রতিযোগীরাও তাদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে এ ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। কোন প্রকার বিশৃঙখলা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

মেলার প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, এ মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছিল। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাগুলো আবারও প্রচলন হলে যুবসমাজ মাদকসহ নানা রকমের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে।

এদিকে আয়োজক কমিটির সদস্য মোঃ মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে নিয়মিত এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আগামীতেও এমন আয়োজন করা হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও সকাল থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল।

ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতেছিলো স্থানীয় লোকজন। প্রতিবছরই এ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন তারা; আমরাও তাই প্রতিবছর এ আয়োজন করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap