বঙ্গবন্ধু সেতুর পিয়ারের ওপর স্থাপিত পট বিয়ারিংয়ে ত্রুটি ধরা পড়েছে

মধুপুর ডেস্কঃ যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন ও সড়ক যান চলছে। এ সেতুর পিয়ারের ওপর স্থাপিত পট বিয়ারিংয়ে ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেতুতে যান চলাচলের চাপ স্বাভাবিক নিয়মে সামলান এবং সংকুচিত হওয়া রোধে কারিগরিভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ বিয়ারিং। বঙ্গবন্ধু সেতুর ১১২টি বিয়ারিংয়ের মধ্যে ৫৩টির ট্যাপলিন ক্ষতিগ্রস্ত। ট্যাপলিন হচ্ছে বিয়ারিংয়ের উপরিভাগের সাদা অংশ। নতুন করে সব বিয়ারিং প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ডসভা।

গত বৃহস্পতিবার সেতু কর্তৃপক্ষের ১১২তম বোর্ডসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সেতুতে বিয়ারিং প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

সভা সূত্র জানায়, সেতুতে স্থাপিত বিয়ারিং মেরামতে যে খরচ চাওয়া হয়েছে তা একই দরে নতুন কেনা যায়। তা ছাড়া ১৯৯৮ সালে স্থাপিত এসব বিয়ারিংয়ের বয়স এরই মধ্যে ২৪ বছর পার হয়ে গেছে।

এগুলোর আয়ুস্কাল ২৫ বছর। তার মানে আর এক বছর পর এগুলো মেয়াদ অতিক্রম করবে। বিয়ারিং প্রতিস্থাপনে গাড়ি চলাচল সীমিত রাখতে হবে। এক এক করে প্রতিটির প্রতিস্থাপন সম্ভব। এখন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (ওটিএম) মাধ্যমে বিয়ারিং কেনা হবে। জাপান বা ইতালির কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করার জন্য দরপ্রস্তাব চাওয়া হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ইতালির এফআইপি ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানির মাধ্যমে প্রস্তুত করা পট বিয়ারিং অ্যান্ড শক ট্রান্সমিশন ডিভাইসগুলো সেতুতে স্থাপন করে। ওই ঠিকাদারের দাখিল করা অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স (ওঅ্যান্ডএম) ম্যানুয়াল অনুযায়ী লাইফলাইন ২৫ থেকে ৩০ বছর।

এসব বিয়ারিং প্রতিস্থাপনের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ, বুয়েট এবং এফআইপি ইন্ডাস্ট্রিয়ালের প্রতিনিধিরা ২০২১ সালে দুই দফা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকে এফআইপির প্রতিনিধি জানান, তারা শুধু ক্লায়েন্টের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ম্যাটেরিয়াল/পট বিয়ারিং এবং শক ট্রান্সমিশন ডিভাইস ও এ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে।

এ ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী তারা টেকনিক্যাল সুৃপারভিশন সাপোর্ট দিতে পারবে। তাই এসব যন্ত্র সেতু নির্মাণকালীন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এফআইপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি অথবা সমমানের অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার শর্ত অন্তর্ভুক্ত করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ হলে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হবে। তখন সেতুর ওপর চাপ কমবে। এর মধ্যে বিয়ারিং প্রতিস্থাপন করা হলে বঙ্গবন্ধু সেতুতে গাড়ি চলাচল আরও নির্বিঘœ হবে বলে মনে করছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আমাদের সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap