ঘাটাইল উপজেলায় ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশাল বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকাল তিনটায় ওই বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ঘাটাইল খেলার মাঠে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে খেলার মাঠে সমবেত হন। মুহূর্তের মধ্যে ঘাটাইল খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির। খেলার মাঠ থেকে শুরু হওয়া গুনগ্রাম তেলের পাম্প পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিলিটি পুনরায় খেলার মাঠে ফিরে আসতে সময় লাগে দেড় ঘন্টারও অধিক সময়। এ সময় ঘাটাইলের অলিগলি সহ পৌর শহরের কোথাও নেতাকর্মীদের পদভারে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির বলেন, আমাদের সামনে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার তা আমাদের দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি প্রিয় এই মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে। যে কোন মূল্যে বীরের এই রক্তস্রোত, হাজার হাজার মায়ের অশ্রুধারা যেন বৃথা না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আসুন আজ আমরা সবাই মিলে শপথ গ্রহণ করি গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করি। বাস্তবায়িত করি কোটি মানুষের নতুন বাংলাদেশের নির্মাণের স্বপ্নকে।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শুরুতেই ওবায়দুল হক নাসির বলেন, রক্তস্নাত জুলাই-আগস্ট একবছর পর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্টদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গ্রেফতার হত্যা, গুম, খুন ও আয়না ঘরে বন্দি রাখার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী। আমাদের সন্তানরা তথা ছাত্র জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদদের পতন ঘটেছে। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ার। এ সময় এই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির। তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে। গুম-খুন-বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার যারা হয়েছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি পরিবারের সন্মান এবং তাদের পুনর্বাসন এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক সানা, সাধারণ সম্পাদক হাজী বিল্লাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আনারুল আজিম রানা, উপজেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম রফিক, পৌর বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসেত করিম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হেলাল, শ্রমিক দলের সভাপতি সুফি সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন (বুলবুল), সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হাসান সৌরভ, পৌর যুবদলের সভাপতি সাদিকুর রহমান টিটু, সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার জাহান কলি, সদস্য সচিব শাহিন মিয়া। এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রনিসহ ১৪টি ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ অসংখ্য তৃণমূল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।