মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মধুপুরে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা অভিযোগে সৎপিতার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্নেল আজাদের মতবিনিময় মধুপুরে অ্যাড. মোহাম্মদ আলীর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা   মধুপুরে খাদ্য সংকটে গারো জনপদে বানরের উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে মধুপুর ফল্টে ভূমিকম্পে কোটি মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা মধুপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই আরোহীর মৃত্যু মধুপুরে এক প্রতারক গ্রেফতার টাংগাইলের ৪টি আসনে বিএনপির হ-য-ব-র-ল অবস্থা!!! মধুপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশনের মানববন্ধন মধুপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া–পালটা ধাওয়া ও ভাঙচুর

টাংগাইলের ৪টি আসনে বিএনপির হ-য-ব-র-ল অবস্থা!!!

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলার ৮ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৭টিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। টাঙ্গাইল সদর আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। ঘোষিত ৭টি আসনের ৪টিতে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। হয়েছে সংঘর্ষ, হচ্ছে মিটিং-মিছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব কোন্দলের সুযোগ নিতে পারেন অন্য প্রার্থীরা।

জানা যায় মনোনয়ন দ্বন্দ্বে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল -৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে চলছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে মনোনীত প্রার্থী রবিউল আওয়াল লাভলুর বিপক্ষে একটি অংশের ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ রয়েছে।

স্থানীয় অনেক নেতাকে তার প্রচারণায় এখনো অংশ নিতে দেখা যায়নি।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী নেতা ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক সদস্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাড. মোহাম্মদ আলি।

মনোনয়ন ঘোষণা পর থেকেই মোহাম্মদ আলীর সমর্থক-অনুসারীরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে একাধিক মিছিল-মিটিং করেছেন।

অনুসারীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। সবশেষ গত বুধবার বিকেলে স্বপন ফকির ও মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় দুপক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও দোকানপাট। আসনটিতে কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে স্থানীয়রাও থাকেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ী নেতা স্বপন ফকির ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির জেলার কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নতুন মুখ অ্যাড. এসএম ওবায়দুল হক নাসির। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও কমিটি নিয়ে জোরালোভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। করছেন মিটিং-মিছিল-শোডাউন। যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে।

এদিকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি-মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ তার অনুসারী সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়ন পরিবর্তন চেয়ে মাঠে নেমেছেন। করছেন শোডাউন। তিনি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মানববন্ধন এবং মিছিল-মিটিং করে বিএনপির হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। ফলে ঘাটাইলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং কোন্দল বিরাজ করছে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলার সহকারী সেক্রেটারি হুসনি মোবারক বাবুল মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমান মতিন৷ মনোনয়ন ঘোষণার পর তিনি আরো শক্তভাবে মাঠে নেমেছেন। উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রতিনিয়তই গণসংযোগ করছেন৷ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করে চলেছেন। যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে। ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা আহ্বান জানিয়েছেন মতিন। এখানে অন্য ৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মতিনকে সমর্থন দিয়েছেন।

এদিকে মনোনয়ন ঘোষণার পরও মাঠ ছাড়েননি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা বেনজির আহমেদ টিটো। তিনি ইউনিয়নে ইউনিয়নে তার অনুসারী নেতাকর্মী এবং কমিটির সদস্যদের নিয়ে মিটিং-মিছিল করছেন। আশাবাদী হয়ে তিনি মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি করছেন। তবে ধানের শীষের প্রশ্নে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ বলে বক্তব্যে জানিয়েছেন টিটো।

২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে ৮৭ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন মতিন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। পরে ঐক্যফ্রন্টকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সাবেক মন্ত্রী কালিহাতীর একাধিকবারের এমপি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সম্প্রতি জেলখানা থেকে জামিনে বের হয়েছেন। তার ভক্ত অনুসারীরা মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা নিয়ে তাকে কালিহাতীতে স্বাগত জানান। পরে লতিফ সিদ্দিকী গ্রামের বাড়ি ছাতিহাটীতে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত এবং উপস্থিত অনুসারী সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সহধর্মিণী সাবেক এমপি বেগম লায়লা সিদ্দিকী, ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ও কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি নির্বাচন করতে পারেন।

এখানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী জেলার নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক মাঠে সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। প্রয়াত মন্ত্রী স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়ার সিরাজ শুক্লাও নির্বাচন করতে পারেন।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আহমেদ আযম খান। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অবিরাম মিটিং-মিছিল-গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। দিচ্ছেন সাহায্য-সহযোগিতা।

এখানে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী লাবিব গ্রুপের কর্ণধার সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (সিআইপি) মাঠে রয়েছেন৷ করছেন গণসংযোগ। বাসাইল ও সখিপুরের মসজিদগুলোয় নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান এবং চলাচলের অনুপযোগী কয়েকটি রাস্তা মেরামত করে দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। তিনি নির্বাচন করতে পারেন। ফলে এ আসনেও রয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যা নেতাদের বক্তব্যে প্রকাশ্যে এসেছে।

এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও সভা সমাবেশ করছেন। করতে পারেন নির্বাচন।

এখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

একাধিক ভোটার বলেন, বিএনপির এমন বিভেদ বিদ্যমান থাকলে স্বতন্ত্র কিংবা অন্যদলের প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, নিজেদের রেষারেষির কারণে যেন অন্যরা সুযোগ নিতে না পারেন। তাই কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে দ্রুত একমঞ্চে এসে সবাইকে কাজ করার পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

এসব বিষয়ে কথা হয় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। বিএনপি একটি বড় দল। এখানে একাধিক প্রতিযোগী থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে বিদ্বেষ প্রতিহিংসা কাম্য নয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। দল করতে হলে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অবশ্যই অনুগত থাকতে হবে। ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102