মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

এক ‍দিনে টাঙ্গাইলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সোয়া ৫০ লাখ বই বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার ২ হাজার ৩৩৩টি প্রাথমিক ও এক হাজার ২১৭টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের প্রথম দিনে ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৪২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৩টি বইয়ের সংকট রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ের এক হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭০৫টি কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়ে মোট ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৭৬টি চাহিদার বিপরীতে সবগুলো বই পাওয়া গেছে এবং তা বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে এক হাজার ২১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ৩৩৫টি। এরমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৩টি বইয়ের সংকট রয়েছে। উল্লেখিত বইগুলো বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিতরণ করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বছরের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভীর। শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে বই নিতে এসেছে। এছাড়া সরকারি ছুটি থাকায় বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল গত (৩১ ডিসেম্বরের) পরিবর্তে (১ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হয়। বার্ষিক পরীক্ষার ফল এবং বই এক সাথে নিতে অনেকেই অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।

তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের কারণে নতুন বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব পালন না করা হলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পেয়ে তাদের চোখে-মুখে অতুলনীয় খুশির ঝিলিক দেখা যায়। এদিন সকাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে বিদ্যালয়ে সমবেত হয়। হাতে ঝকঝকে রঙিন মলাটের নতুন বই পেয়ে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের উল্লাসে ফেটে পড়ে। কেউ বইয়ের পাতা উল্টে ছবি দেখে, কেউবা নতুন বইয়ের কাগজের বিশেষ সুবাস নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ আনন্দ কেবল নতুন বই পাওয়ার নয়। বরং নতুন শ্রেণিতে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা শুরু করার যেন এক অনুপ্রেরণা।

টাঙ্গাইল জেলার গ্রাম থেকে শহর, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দিনে বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। নতুন বই হাতে নিয়ে তাদের দলবদ্ধ ছবি, সেলফি ও হাসি শিক্ষাবর্ষের এক সুন্দর সূচনা তৈরি করে। সব মিলিয়ে নতুন বইয়ের এই উল্লাস কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, বরং পুরো জাতির এক নতুন আশার প্রতিফলন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম, শাবনাজ, মনি, রাশেদ, ইমরুল, নাজমুলসহ অনেকেই জানান, তারা বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নতুন বই হাতে পেয়ে খুবই আনন্দিত। বছরের শুরু ভালো ফলাফলের সঙ্গে নতুন বইয়ের মনকাড়া গন্ধ তাদেরকে উৎফুল্ল করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন সারা বছর যেন এমন আনন্দ-উৎফুল্লতায় কাটে। শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রনি, আজমল, শাওন, নিলয়, আরিয়ান, ফয়সালসহ অনেকেই জানান, বছরের শুরুতে নতুন বই পেয়ে তারা খুব খুশি। সহপাঠী বন্ধুরা সবাই মিলে তাই আনন্দে মেতে ওঠেছে।
পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কদ্দুছ জানান, তারা চাহিদার তুলনায় সামান্য পরিমান বই কম পেয়েছেন। যেগুলো পেয়েছেন সেগুলো প্রথম দিনে বিতরণ করতে পেরেছেন। বাকিগুলো যথাসময়ে বিতরণ করবেন।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন জুয়েল জানান, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় এবার বই উৎসব করা হয়নি। তারপরও বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারা সরকারের একটা বড় সাফল্য বলে তিনি মনে করেন। তবে ৭ম ও ৮ম শ্রেণির পুরো সেট বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জানুয়ারির শেষ নাগাদ সেগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেরেকা সুলতানা জানান, বছরের শুরুতে নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া এক সময় বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল- এখন আর সেটা নেই। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে যথাসময়ে নতুন বই বিতরণ করতে পেরে আমরাও খুশি। চাহিদা অনুযায়ি যে বইগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুতই বিতরণ করা হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102