গারোবাজারে আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের গারোবাজারে আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গারোবাজার হইতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কেশরগঞ্জ যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে নিম্নমানের ইট সুরকি সিমেন্ট দিয়ে কাজ করার অভিযোগ এনে স্থানীয়রা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

তারা অভিযোগ করেন ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাতের  আধারে বৃষ্টির মাঝেই আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে।  তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ করে মানববন্ধনকারীরা বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মিতু এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারি মো. মাহফুজকে একাধিকবার বলার পরেও কোন পদক্ষেপ নেননি। তারা  আরসিসি ঢালাইয়ের সকল অনিয়ম বন্ধ করে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দেয়া বরাদ্দকৃত বাজেটে সঠিক ভাবে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে সাদিক হোসেন জানান, রড ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়মের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন,এসে দেখেন হাটু পানিতে ঢালাইয়ের কাজ চালাচ্ছেন। এমনি কি অন্যান্য আরসিসি ঢালাইয়ে যে পরিমান রড দেওয়া হয়, তার অর্ধেক রডের ব্যবহারও হয়নি এখানে।

গারোবাজার হইতে কেশরগঞ্জের এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারন হিসেবে বুলবুল তরফদার বলেন, আনারস কাঠালের জন্য সারা দেশে পরিচিত গারোবাজার। আনারসের সিজনে এখানে প্রতিদিন কমকরে হলেও ২০/৩০ ট্রাক আনারস দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছায়। গারোবাজারের আশপাশের মমুর্ষ্য রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এ রাস্তা হয়েই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার এ রাস্তায় এমন অনিয়ম কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেন না বলেও জানান।

রফিক তরফদার জানান, কয়েকদিন আগেও রোদ ছিলো রোদের মধ্যে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ ছিলো। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করার পর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হবে বৃষ্টির । এ জন্যই হয়তো রাতের আধারে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছিলো।

উপজেলা প্রকৌশলী হেদায়েত উল্যাহ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। রড, সিমেন্ট সব ঠিকই আছে। তবে বৃষ্টির কারণে কোন কোন জায়গায় রেডি মিক্স সিমেন্ট সরে যেতে পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিকেলের দিকেই কাজ করার কথা ছিলো, তারা দেরি করার কারণে একটু সন্ধা হয়।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে দিনে হাট-বাজার বসায় শেষ রাতে কাজ ধরেছি। কাজ আরো ভালো করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap