সখীপুরে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ কারণে ওই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরাজিত তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী। একই সঙ্গে তাঁরা অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গতকাল রোববার দুপুরে সখীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান পদের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ বাদল মিয়া (মোটরসাইকেল), নুরুজ্জামান তালুকদার (চশমা) ও হাফিজ উদ্দিন (ঘোড়া)। এ সময় চারটি ওয়ার্ডের পরাজিত চার সাধারণ সদস্য প্রার্থী, দুটি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা নৌকার প্রার্থীর কাছ থেকে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ইভিএমে কারসাজি করে ফল পাল্টে দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ বাদল মিয়া। তিনি বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী।

১৫ জুন সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ও দাড়িয়াপুর দুই ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে গজারিয়াতে আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও দাড়িয়াপুরে একই দলের আনসার আলী জয়ী হয়েছেন।

লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানোর সময় মোহাম্মদ বাদল মিয়া অভিযোগ করেন, ৮ জুন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দুটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার করে টাকা পাঠান। এ ছাড়া আরও চারটি নম্বরে একাধিকবার নির্বাচনের আগে একই ব্যক্তি আরও ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পাঠান।

এ টাকা পাঠানোর কারণে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফল বদলে দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা ওই দুটি মুঠোফোন নম্বরে রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদে সদ্য বিজয়ী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগটি হাস্যকর ও ভিত্তিহীন। ইভিএমে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। ভোটাররা তাঁকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। অভিযোগকারীরা বিএনপি-জামায়াতের লোক। ভোটে পরাজিত হয়ে তাঁরা নতুন নির্বাচন কমিশন ও এ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ভোটের আগে একটি প্রতারক চক্র নির্বাচন কমিশনের পরিচয় দিয়ে বিকাশ নম্বরে টাকা চেয়ে তাঁর কাছেও কল করেছিল। কিন্তু তিনি পরে জানতে পারেন ওরা নির্বাচন কমিশনের লোক নয়, প্রতারক চক্র।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মনে হচ্ছে পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকেই প্রতারক চক্রটি টাকা নিয়েছে। এখন ভোটে পরাজিত ও প্রতারিত হয়ে আমার কথা বলছে।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও গজারিয়া ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউল হক বলেন, ‘আমার বা আমাদের কোনো কর্মকর্তা বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করেছেন—এমন কোনো প্রমাণ তাঁরা দেখাতে পারবেন না। সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা অবাস্তব ও কাল্পনিক। ওই নম্বরগুলো নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কারও নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap