ঘাটাইলে বেড়েছে ড্রাগন ফলের চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লাল মাটির মানুষের স্বপ্নের চাষ ড্রাগনের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ জেগেছে অধিক মাত্রায়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাবনাময় এই ফলের চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সৌখিন কৃষকদের মাঝে। বিশেষ করে লাল মাটির পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে ড্রাগন চাষ।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় তরুণ উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন বিশেষ করে- লক্ষিন্দর, কাজলা, বাসাবাইদ, বেইলা, সানবান্দা, জোড়দীঘিসহ পাহাড়ি এলাকায় ড্রাগন চাষীদের অপার লাভের সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য বাগান।

উদ্যোক্তা মো. রফিকুল ইসলাম বিদ্যুতের ফলের বাগান ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ ফুট উচ্চতার খুঁটিতে পেঁচিয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের গাছ। গাছে ঝুলছে তিন থেকে চারটি কাঁচা-আধা পাকা ড্রাগন ফল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ড্রাগনের চাষপদ্ধতি জেনে নিচ্ছেন।

কথা বলে জানা যায়, বেইলা গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি প্রায় ৭ বিঘা জমির পুরো জায়গাজুড়ে তিনি ২০২১ সালে (বাউড্রাগন-২,লাল) ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। ১৩০০শ খুঁটিতে তিনি প্রায় ৬০০০ চারা রোপণ করেছেন।

তার বাগানে ফলবান হওয়া পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তবে এ সিজনে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন তিনি। আশা করছেন এবারই আরো ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, ড্রাগন চাষে ঝুঁকি কম, ফলের দামও বেশি দেখে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি ব্যাংক অথবা সরকারি ভাবে ঋণের ব্যবস্থা থাকলে ড্রাগন চাষের বিপরীতে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে অন্য চাষিরা ড্রাগন চাষে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ড্রাগন দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে জন্ম নেওয়া লতানো ক্যাকটাস গাছের ফল। বর্তমানে থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। লাল মাটির উঁচু পাহাড়ি এলাকায় ড্রাগন চাষের সবচেয়ে বেশি উপযোগী। আমরা উদ্যোগতাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap