কারখানা বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন, বিক্ষোভ-সমাবেশেও কোনো লাভ হয়নি, বন্ধ হয়নি বিদ্যালয় ঘেঁষে কারখানা নির্মান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আঠারোদানা গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে ধলেশ্বরী এগ্রো ফুড মিলস নামের একটি কারখানা। কারখানা বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সমাবেশেও কোনো লাভ হয়নি। মিলেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতিও। সব বাধা পেরিয়ে বেশ তোড়জোড়েই চলছে কারখানার নির্মাণকাজ।

উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের আঠারোদানা মৌজায় ৯২ শতাংশ তিন ফসলি জমির ওপর ধলেশ্বরী এগ্রো ফুড মিলস নামের কারখানাটি স্থাপন করা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মীয়মাণ কারখানা ঘেঁষেই রয়েছে আঠারোদানা বাদেপারশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এলাকাটিও ঘনবসতিপূর্ণ।

স্থানীয়দের দাবি, ওই জমিতে কারখানা স্থাপিত হলে শুধু কৃষিজমিই নষ্ট হবে না, পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। শব্দ ও পরিবেশদূষণের ফলে ব্যাহত হবে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। এ নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে কোনো ফল হয়নি। উল্টো নির্মীয়মাণ কারখানার মালিকপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে দ্রুত গতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্ব্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘লোকালয়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন স্থানে শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া ছাড়পত্র সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবে। একই সঙ্গে ঘটবে পরিবেশের বিপর্যয়। ’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তিনবার শুনানি হয়েছে। শুনানিতে কারখানার মালিকপক্ষ উপস্থিত থাকলেও অন্যপক্ষ উপস্থিত হয়নি। আপত্তি না থাকার কারণেই কারখানাটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ আছে। ’

আঠারোদানা গ্রামের মো. সোহেল বলেন, ‘বিদ্যালয় ঘেঁষে নির্মীয়মাণ কারখানা বন্ধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তার পরও কারখানার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। আমি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে কারখানার নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানাই। ’

কারখানার মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আপত্তি না থাকার কারণেই পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানা নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছে। ’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, ‘ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক আমাদের অবগত না করেই কারখানার মালিকপক্ষকে ছাড়পত্র দিয়েছে। ’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কল্পনা রানী ঘোষ বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল—তা জেনে জানাতে হবে। ’

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কারখানা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমোদন দিয়েছে। এলাকাবাসীর দেওয়া আবেদনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap