October 1, 2020, 11:35 am

পুরনো আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

মধুপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার গনি মিয়া পুরাতন ভ্যান-রিকশার কেনাবেচা ও সুদের কারবার করতেন। গত এক বছর আগে দশ লাখ টাকায় জমি কিনে তাতে পাকা দালান তৈরি কর বসবাস শুরু করেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে গনি মিয়ার বড় মেয়ে পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।তিনি শুক্রবার সকালে এসে বাড়ির মূল গেইটে তালাবন্ধ অবস্থা ও বাড়ির ভিতর থেকে বিকট গন্ধ পান। পরে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চারজনের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা। তবে গনি মিয়ার স্ত্রীর তিন স্বজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া ছাড়া অন্য কাউকে আটক করতে পারেনি তারা।

এলাকার লোকজন জানায়, বছর তিনেক আগেও গনি মিয়াকে তারা ভ্যানগাড়ি চালাতে দেখেছেন। হঠাৎ অঢেল টাকার মালিক বনে যাওয়া গনি মিয়ার সঙ্গে স্থানীয়দের ছিলো না তেমন সখ্যতা। তাই তারা ধারণা করছেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সিআইডির পরিদর্শক বলেন, ঘটনার সময় ঘরে থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। তছনছ করা হয়নি কোনো আসবাবপত্র।

হত্যার নৃশংসতা দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক সংস্থার ধারণা আগের কোনো আক্রোশ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন জানান, ‘কয়েকটি সন্দেহকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা।’

‘‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন স্বজনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মামলা রুজু হলে যদি তারা জড়িত হলে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আর জড়িত না হলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে।’’

এই ঘটনার রহস্য দ্রুতই উৎঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘তিনটি রুমে আমরা চারটা মরদেহ পেয়েছি। আর একটা রুমে একটা কুড়াল পেয়েছি। মৃতদেহে কুড়ালের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহকারী একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ধারণা, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা পূর্ব পরিচিত। তারা মূল গেট বা দরজা ভেঙে প্রবেশ করেনি। তারা সেখানে হত্যার আগে থেকে ছিলো, ধস্তাধস্তিও হয়েছে।

রাতের কোনো এক সময় আলাদা আলাদা তিনটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে গণি মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী তাজিরন বেগম বুচি (৩৫), ছেলে তাইজুল (১৬) ও ৮ বছরের সাদিয়াকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঘর ও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে পালয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap