মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

First Online Newspaper in Madhupur

শিরোনাম :
কোপায় আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মানছেন ফুটবল বিশারদরা টাংগাইলের তিন উপজেলায় একযোগে ভোট গ্রহণ চলছে ধনবাড়ীতে পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু নাগরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক যুবকের মৃত্যু মাভিপ্রবিতে ২১ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা দাহ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিই বড় চ্যালেঞ্জ প্রার্থীদের ধনবাড়ীতে ভাঙ্গা সেতুর কারণে চার বছর যাবৎ ২৫ গ্রামবাসীর ভোগান্তি টাংগাইলে জমজমাট প্রচারণা! কে হচ্ছেন টাংগাইলের চেয়ারম্যান?? টাঙ্গাইলে দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বাতাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ সর্ম্পূণভাবে বন্ধ!! গোপালপুরে মেয়েকে হত্যার পর বিষপানে মা-বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা

ইতিহাস লিখতে গেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম আসবেই-প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিহাস লিখতে গেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম আসবেই। জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিলো। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ। জয় বাংলা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। এটা আজকে প্রমাণ পেয়েছে।

তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। জয় বাংলা স্লোগান আজকে আমাদের জাতীয় স্লোগান। কাজেই ৭ মার্চ এই ভাষণ শুধু বাঙালি বা আমাদের না, ইতিহাসে যে নেতারা ভাষণের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার চেতনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, সেই ভাষণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৭ মার্চে ভাষণের দিনটি স্মরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর পরাধীন থাকা যাবে না। জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংষ্কৃতিক, সামাজিক মুক্তি দিতে হবে। আর সেই চিন্তা থেকেই ধাপে ধাপে তিনি এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। তারই একটি অংশ হচ্ছে ৭ মার্চ।

তিনি বলেন, জাতির পিতা মাসের পর মাস কারাগারে কাটিয়েছেন। দেশের মানুষের কথা তিনি যখনই বলেছেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মামলা দেওয়া হয়েছে। বাঙালিরা সরকার গঠন করবে এটা পাকিস্তানিরা কখনো মেনে নেয় না। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু কিন্তু বলেছেন কি কি অবস্থা ছিলো। যেহেতু নির্বাচনে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি, তার দাবি ছিলো আমাদের এখানে সংসদ বসতে হবে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন এখানে বসবে, ঢাকায় বসবে। কিন্তু সেটি বাধা দিয়েছিলো ইয়াহিয়া খান, ভুট্টো। এসবের প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ আন্দোলনে ফেটে পরে। বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ওই সময়ে ৭ মার্চ তিনি জনসভা করার ঘোষণা দিলেন।

‘সেই জনসভায় লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে চলে এসেছিলো। হাতে বাঁশের লাঠি, কারো হাতে নৌকার বৈঠা সবকিছু নিয়ে মানুষ ছুটে এসেছিলো। এই ভাষণ দেওয়ার আগে আমাদের অনেক জ্ঞানী গুণী বুদ্ধিজীবী লিখিত বক্তব্য নিয়ে আসেন, কেউ পরামর্শ দেন। তখনকার ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক ও সিরাজুল হক খান তারা এসে বললো কালকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেই হবে। না দিলে চলবে না। মানুষ সেটিই চায়। বঙ্গবন্ধু দুই নেতার হাতে দুই হাত রেখে বললেন, ‘সিরাজ, লিডার শুড লিড দ্য ল্যাড, ল্যাড শুপ নট লিড দ্য লিডার।”

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গমাতা শেখ ফুজিলাতুন্নেসা মুজিবের পরামর্শ উল্লেখ করে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, পরেরদিন মিটিং, সকাল থেকে নেতাকর্মীতে বাড়িতে লোকজন ভরা। অনেকে অনেক পরামর্শ, লিখিত বক্তব্য নিয়ে আসেন। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা  মুজিব বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘অনেকে অনেক কিছু বলবে। তোমার কারো কিছু শোনার দরকার নেই। এদেশের মানুষের জন্য তুমি সারাজীবন সংগ্রাম করেছো। তুমি জানো কি বলতে হবে। তোমার মনে যে কথা আসবে, তুমি শুধু সেই কথা বলবে।

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন, সেটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখনকার পরিস্থিতিতে খবর এসেছিলো আমাদের কাছে যে, পাকিস্তানি মিলিটারি সবকিছু নিয়ে তৈরি। এদিকে লাখো জনতা ছুটে এসেছে কি নির্দেশনা দেবেন নেতা। একজন নেতার কি দায়িত্ব? এই মানুষগুলোকে তাদের আকাঙ্ক্ষার বাণী শোনানো এবং শত্রুপক্ষকে কিভাবে বিরত রাখা, ৭ মার্চের ভাষণে কিন্তু সেটি স্পষ্ট করেছিলেন। গেরিলাযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুকে মোকাবিলা করতে বলেছিলেন। পাশাপাশি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গেড়ে তুলতে বলেছিলেন। যে কথা বলার সে কথা কিন্তু বলা হয়ে গিয়েছিলো। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই ঐতিহাসিক বাণী।

‘যখন এই কথা বলে চলে আসেন পাকিস্তানি সেনারা যারা ওই সময়ে সেখানে ছিলেন, পরবর্তীতে তারা অনেকে বই লিখেছে। তারা লিখেছে, উনি যে কি বলে গেলেন। আমরা স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমরা কোনো অ্যাকশনই নিতে পারলাম না।”

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ একটা মানুষকে যেভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে, আজকে এই ভাষণটা শুধু আমাদের ভাষণ না আন্তর্জাতিক মর্যাদাও পেয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

তিনি বলেন, মাত্র ৩ বছর ৭ মাসের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে যখন স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন স্বাধীনতাবিরোধীদের সহ্য হয়নি। দুর্ভাগ্যের বিষয় পাকিস্তানিরা হত্যা করার সাহস পায়নি। কিন্তু যারা দিনভর আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো তাদের দেখলাম ঘাতক রূপে। শুধু ক্ষমতার জন্য রাষ্ট্রপতিকে করেনি আমার মাকে হত্যা করেছে। ছোট তিন ভাই, চাচাসহ সবাইকে হত্যা করেছে।

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ এক কদমও এগোতে পারেনি। বাংলাদেশ ছিলো স্থবির। আর্থসামাজিক উন্নতি হয়নি, দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতা দখলকারী মুষ্টিমেয় কিছু লোকের অর্থশালী হয়েছিলো। কিন্তু দেশের মানুষ বঞ্চিতই থেকে গিয়েছিলো।”

এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2024 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
Verified by MonsterInsights