মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০৩ অপরাহ্ন

First Online Newspaper in Madhupur

এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার ঈদ যাত্রায় ভোগাবে যাত্রীদের

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঈদ যাত্রায় ভোগান্তির আরেক নাম ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলসহ ২৬টি জেলার মানুষ চলাচল করে এ মহাসড়ক দিয়ে। ফলে ঈদে বাড়তি পরিবহনের চাপে পড়ে মহাসড়কটি। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে যান চলাচল করলেও, এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দুইলেনে চলাচল করে। এ ছাড়াও চলমান রয়েছে এ অংশের চার লেনের কাজ। ট্রাফিক আইন না মেনে যানবাহন চালালে ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে থাকলে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। তবে ঘরমুখো মানুষজন যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কে এখনও দুই লেনে যানবাহন চলাচল করছে। এ অংশে চলমান রয়েছে চারলেনের কাজ। তবে জোকারচর থেকে সেতু পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক চারলেনে যান চলাচল করবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সড়কটিতে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের যানবাহন এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত দুইলেনে চলতে গিয়ে গাড়ির বাড়তি চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া স্বাভাবিক সময়ে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদকেন্দ্রিক ৪৫ থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। এতে করে যানজটের শঙ্কা রয়েই যায়। এদিকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল করলে অন্য যানবাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সেগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিগত বছরের মতো পুলিশি তৎপরতায় এবারও ঈদের আগে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী বাস বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় থেকে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা লিংক রোড দিয়ে এবং উত্তরাঞ্চলমুখী যানবাহন এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত একমুখী যানচলাচল করবে। এতে করে কিছুটা স্বস্তিরও বার্তা রয়েছে যাত্রীদের জন্য। যানবাহন পারাপারে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজার উভয়পাড়ে মোটরসাইকেলের লেনসহ ২০ লেন চালু রাখার চিন্তা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, সেতুর ওপর গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে সাময়িক সময়ের জন্য মাঝে মাঝে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। ঠিক তখন সাময়িকভাবে টোল আদায় বন্ধ থাকে। এবার টোল বক্স বৃদ্ধি করা হবে।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা হতে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব পর্যন্ত দুইলেনের সড়কে তিনটি লিঙ্করোড রয়েছে। একটি এলেঙ্গা থেকে ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী, এলেঙ্গা থেকে ভূঞাপুর-তারাকান্দিগামী রোড এবং বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব গোলচত্ব্বর থেকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি রোড সড়ক। এই লিঙ্করোডের পরিবহন মহাসড়কে প্রবেশের সময় একপাশের পরিবহন আটকে রাখা হয়। এতে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

গাড়িচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে কোনো সমস্যা হয় না, তবে যত সমস্যা হয় এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত। এ রাস্তায় অনেক চালক আছে যারা গাড়ি ওভারটেকিং করার সময় রং সাইড দিয়ে প্রবেশ করে এতে যানজট লেগে যায়।’ অপর গাড়িচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে চালকরা লক্কড়-ঝক্কর যানবাহন সড়কে নামাবে। পুলিশ তৎপর হলে যানজটের শঙ্কা কম থাকবে।

এলেঙ্গা কথা হয় যাত্রী আসাদের সঙ্গে। তিনি জানান, এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে। ঈদের সময় যদি কাজ বন্ধ রাখা হয় তাহলে আশা করি যানজট বেশি হবে না। এই কাজের জন্য মাঝে মাঝে রাস্তায় গাড়ি থেমে থাকতে হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের পাশাপাশি ফিটনেসহীন গাড়ি ও বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের কারণে সমস্যায় পড়তে হয়।

চার লেনের নির্মাণ কাজের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম কোম্পানি লিমিটেডের জুনিয়র স্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ার রিমন হোসাইন বলেন, চারলেনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সড়কের জোকারচর থেকে সেতু পর্যন্ত দক্ষিণ পাশ দিয়ে চার কিলোমিটার চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো চারলেন সড়কের সুবিধায় এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু এলেঙ্গার পর থেকে সেতু পর্যন্ত সড়ক দুই লেন। চার লেনের যানবাহন দুই লেন সড়কে প্রবেশের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। এবার এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোলপ্লাজার কাছে গোলচত্বর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার একমুখী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে এ সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলবে। আর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সেতু পার হওয়ার পর বিকল্প সড়ক হিসেবে গোলচত্বর থেকে উত্তর দিকে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসবে। তিনি আরও জানান, এবার ঈদে ৭০০ পুলিশ হাইওয়েতে ডিউটি পালন করবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেক সময় ঈদের আগের দিন রাস্তা তুলনামূলকভাবে ফাঁকা হয়ে যায়। তখন অনেক ব্যবসায়ী ফাঁকা রাস্তায় বাড়িতে যেতে নিলে ছিনতাইকারী বা মলম পার্টির খপ্পরে পড়তে পারেন। সেজন্য সব পুলিশ ঈদের সাতদিন আগে থেকে ঈদের পরের দুইদিন পর্যন্ত হাইওয়েতে ডিউটি করবে যাতে কেউ কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2024 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
Verified by MonsterInsights