কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষেরা জানান, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্নার গড়ে তোলা হয়। যেখানে শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে–কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাঁদের বাড়িতেও সবজিবাগান করতে পারেন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দুপুরের দিকে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্নারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছানোয়ার হোসেন তাঁদের সবজিবীজ বোনার আগে মাটি তৈরি শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর নির্দেশনামতো মাটি তৈরির কাজ করছেন। ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে তিন বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হন। কিন্তু দেখতে পান, এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়ির পাশের জমির ওপর ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মহিষমারা কলেজ। কলেজটি ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে করে দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ছানোয়ার হোসেন জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৬ পান। বর্তমানে তিনি কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে গ্রামে বসে চাষবাস করেও ভালোভাবে চলা সম্ভব। তাই শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষে চাকরি না পেলে যাতে বেকার বসে না থাকেন, সে জন্য তাঁদের উৎপাদনমুখী শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা নেন তিনি। ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের মাটি উর্বর। এখানে যেকোনো ফসল ফলানো যায়। জমি ছাড়াও রাস্তাঘাট, বাড়ির ছাদ—যেখানে খুশি চাষাবাদ করা যায়। কিন্তু কৃষিনির্ভর দেশ হলেও কৃষি বিষয়টি অবহেলিত। লেখাপড়ার পর কেউ আর মাঠপর্যায়ে কৃষিকাজ করতে চান না। তাই শিক্ষিত যুবকদের কৃষিমুখী করতেই এই উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছি।’