মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

টাংগাইলের দুই হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগীর চাপে চিকিৎসক-নার্সরা দিশেহারা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগীর চাপে চিকিৎসক-নার্সরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেনারেল হাসপাতালে বেড সংখ্যার চেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন ১০ গুণ বেশি। ফলে অনেকের বেডে জায়গা হয়নি, তাই ভবনের বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে তাদের। হাসপাতালে ওষুধ সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে।

এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ড না থাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের অধিকাংশই শিশু ও প্রবীণ।

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ১৩টি। রোগী ভর্তি রয়েছেন ১২৫ জন।

এর মধ্যে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ১৬ জন এবং রোববার (১১ জানুয়ারি) ভর্তি হয়েছেন ১০৯ জন। এ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে সাধারণ ১০টি এবং পেইং ১০টি মোট ২০টি বেড রয়েছে। হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জন এবং রোববারের ভর্তি রোগী রয়েছেন ৪১ জন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ডায়রিয়া আক্রান্তদের জন্য কোনো ওয়ার্ড নেই। ঠাণ্ডাজনিত রোগীদের মধ্যে যারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তাদেরকেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। সরাসরি ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের তারা পাশের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ওয়ার্ডের ৪২টি বেডের বিপরীতে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৩৪ জন এবং রোববার ভর্তি রোগী রয়েছেন ৩২ জন।

হাসপাতাল দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, শীতজনিত রোগীর চাপে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা যেন দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বিছানা, ফ্লোর ও বারান্দায় রোগীতে ভরপুর। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের আঙিনায় ছোট ছোট গাছের সঙ্গে তার ঝুলিয়ে রোগীদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তারা অনেক সময়ই হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাচ্ছেন না। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্যালাইন ও দুই-চারটা ট্যাবলেট ছাড়া জরুরি ওষুধগুলো সরবরাহ করছে না। বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনছেন।

ভূঞাপুর থেকে আসা এক রোগীর স্বজন সোলায়মান মিয়া জানান, শিশুর ডায়রিয়া হওয়ায় তিনি রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীকে কোনো বেড বা বিছানা দেওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে মাদুর এনে হাসপাতালের আঙিনায় বিছানা পেতে রয়েছেন। সেখানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তার রোগীকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বাকি ওষুধগুলো তিনি বাইরের দোকান থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনেছেন।

কালিহাতীর মামুন মিয়া, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আকরাম আলীসহ কয়েকজন রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র স্যালাইন ও কিছু ট্যাবলেট দিয়ে থাকে। বাকি সব ওষুধ বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে ভালো চিকিৎসা হয় জেনে তারা এসেছিলেন। কিন্তু সেখানে ডায়রিয়ার কোনো রোগীই ভর্তি না করে জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি, চরম ওষুধ সংকট ও অব্যবস্থাপনায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর স্বজন শহিদুল ও রাজিব বর্মণ বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ দুই-একটি ওষুধ ব্যতীত সবই সরবরাহ করছেন। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা-আবর্জনায় ভরে থাকে। স্যালাইন, ন্যাপকিন, সূঁচসহ সিরিঞ্জ, গজ-ব্যান্ডেজ হাসপাতালের পরিত্যক্ত স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। হাসপাতালে ঢুকলেই উৎকট গন্ধে অবস্থান করা দূরূহ হয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা বাইরে রোগী রাখতে বাধ্য হয়েছেন। যেসব রোগী বাইরে রয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাদের হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও নেওয়া যাবে। ওষুধের ঘাটতি পূরণের জন্য কিছু আনা হয়েছে এবং আরও ওষুধের চাহিদা পাঠানো হয়েছে, যা মঙ্গলবার আসবে। তাহলে আর ওষুধের ঘাটতি থাকবে না।

তিনি জানান, হাসপাতালে ১৭৮টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন ৪৪ জন। স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বাড়তি রোগীর চাপ সামলানো কষ্টকর। তারপরও রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, তাদের ওখানে ডায়রিয়া ওয়ার্ড না থাকায় রোগী এলে পাশের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে ৪২টি বিছানার বিপরীতে ৬৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময়ে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হওয়ায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

তাদের হাসপাতালে ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই-স্টোরে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102