ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নামেন। কাস্টিং ভোটের আট ভাগের এক ভাগের (১২.৫%) কম ভোট পাওয়ায় ২৭ জন প্রার্থীর ৫০ হাজার টাকা করে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, কাস্টিং হওয়া মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে ওই প্রার্থী জামানতের টাকা ফেরত পান না।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন।
ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৬টি। জামানত ফেরত পেতে প্রয়োজন ছিল ৩৫ হাজার ৯০৭ ভোট। এখানে ৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
তারা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (লাঙল) পান ২ হাজার ১৯৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (মোটরসাইকেল) পান ৭২৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম (তালা) পান ২৮ হাজার ২৫৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারুন অর রশিদ (হাতপাখা) পান ১ হাজার ৭৩১ ভোট।
তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার নিপা (হাঁস) পান ১ হাজার ৮৭ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল করিম (হাতপাখা) পান ৪ হাজার ৭৫ ভোট।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৭৮ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ হাজার ৫৯৭ ভোট। এখানে ৩ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন (হাতপাখা) পান ১ হাজার ৮২২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম মিয়া (মোটরসাইকেল) পান ৪ হাজার ১৫২ ভোট ও জাতীয় পার্টির লিয়াকত আলী (লাঙল) পান ৭৫৮ ভোট।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮১ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৬ হাজার ৫৬০ ভোট।
এখানে ৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ কে এম শফিকুল ইসলাম (ডাব) পান ১০৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন (হাতপাখা) পান ২ হাজার ৬০০ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার (মাথাল) পান ২২১ ভোট, জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক (লাঙল) পান ১ হাজার ৬৩৬ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) শফিকুল ইসলাম (ট্রাক) পান ২৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হাসরত খান ভাসানী (একতারা) পান ১ হাজার ১৮৯ ভোট ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (তারা) পান ১ হাজার ৯২ ভোট।
টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭১ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫ হাজার ৪৩৩ ভোট।
এখানে ৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জাতীয় পার্টির জেপির তারেক শামস খান (বাইসাইকেল) পান ৩ হাজার ৪৮৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (মোরগ) পান ২ হাজার ৯৯৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মামুনুর রহিম (লাঙল) পান ১ হাজার ১৬৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আখিনুর মিয়া (হাতপাখা) পান ১২ হাজার ৬৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার (হরিণ) পান ১৫ হাজার ১৬১ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫২ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার ২৮১ ভোট। এখানে ১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) তোফাজ্জল হোসেন (হাতি) পান ১ হাজার ৪৯২ ভোট।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৭ জন। কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ২৬১ ভোট। জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১ হাজার ৫৩২ ভোট।
এখানে ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আউয়াল মাহমুদ (কোদাল) পান ৫১০ ভোট, আমজনতার দলের আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি) পান ৩৩০ ভোট ও জাতীয় পার্টির নাজমুল হাসান (লাঙল) পান ৫৬৫ ভোট।
জানা গেছে, জামানত হারানো ২৭ জনের মধ্যে একাধিক প্রার্থী এর আগের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।