ধনবাড়ীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নে অবস্থিত ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন ফটক, নিজস্ব ভবন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—সবই আছে। কিন্তু নেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা।

ফলে বছরের পর বছর ধরে আবাদি জমির আইল কিংবা কাদামাখা জমি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে গেলে সেই দুর্ভোগ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই অংকের ঘরে থাকার প্রধান কারণ এই দুর্ভোগ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় নয় বছর রেজিস্টার্ড বিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে এটি সরকারি হয়। প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন চার শিক্ষক। দাতাদের জমি দানের পর বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য আর কারো কোনো জমি দান না থাকায় স্থায়ী রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি চারদিক থেকে আবাদি জমি দিয়ে ঘেরা। কোথাও আমন ধানের চাষ হয়েছে, কোথাও চাষের প্রস্তুতি চলছে। বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ গজ পশ্চিমে একটি সড়ক থাকলেও সেই সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো সংযোগ পথ নেই।

দুপুর ১টার দিকে টিফিনের সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কেউ জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে, আবার কেউ জমির সরু আইল ধরে বাড়ির পথে যাচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলে, ‘কাদামাটি মাড়িয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে খুব কষ্ট হয়। খেতের আইল দিয়ে চলাচল করলে ফসলের ক্ষতি হয় বলে জমির মালিকরাও রাগ করেন।’

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার জানায়, শুকনো মৌসুমে আইল দিয়ে যাওয়া গেলেও বর্ষায় জমিতে পানি উঠে যায়। তখন স্কুলে আসতে খুব সমস্যা হয়।

বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা থাকবে না—এটি মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি সমাধানে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

সহকারী শিক্ষিকা পারভিন আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসহ সবারই যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। রাস্তার অভাবে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাচ্ছে, বরং দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।’

প্রধান শিক্ষক মো: হায়দার আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হয়। প্রতিটি সকাল যেন তাদের জন্য নতুন এক সংগ্রাম। পিঠে বইয়ের ব্যাগ আর চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে তারা বিদ্যালয়ে আসে, কিন্তু একটি নিরাপদ রাস্তার অভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত একটি যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এসএমসির সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে দ্রুত স্থায়ী রাস্তার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাস্তা নির্মাণের জন্য আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’