টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নয় বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হানিফ আলী নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল উপজেলার পূর্ব লোকেরপাড়া এলাকার মারকাযুল কোরআন রিজিয়া ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাড়ি উপজেলার যোগীহাটি গ্রামে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে মাদরাসার শিক্ষক হানিফ শিশুটিকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে তাকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানো হয়।
আরো পড়ুনঃ ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
শিশুটির মা বলেন, ‘ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসায় পাঠিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমার নিষ্পাপ সন্তান এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা কাজ করেছে, আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মায়ের শিশুর সঙ্গে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই মাদরাসায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক হানিফ আগের ঘটনায় জড়িত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়েছে। তারা মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লোকেরপাড়া ও এস ফাযিল মাদরাসার সহসভাপতি কাওসার আহম্মেদ কায়েস বলেন, ‘আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
শিশুটির চাচা লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি চাই।’
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

