টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে থামছে না পাহাড়ের লাল মাটি চুরি। এতে উজাড় হচ্ছে গাছাপালা ও বনভূমি। পাহাড়ি এলাকায় জীববৈচিত্র্যসহ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চোর চক্র ডাম্প ট্রাক দিয়ে মাটি চুরির ফলে এলাকার রাস্তাঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একটি চিহ্নিত প্রভাবশালী মহল মাটি চুরির মহোৎসবের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ের লাল মাটি কেটে বিক্রি করে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
গত শুক্রবার উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমিদস্যু মাটি চোর চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে পাহাড়ের লাল মাটি কেটে নিচ্ছে। উপজেলার গোড়াই, আজাগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল এই পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ের লাল মাটি চুরি করে কেটে নেওয়ার ফলে এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার পথে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা পাহাড়ের লাল মাটির টিলা কেটে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। চক্রটি দিনে ও রাতের আঁধারে উপজেলার ২৫-২০টি স্পটে পাহাড়ের লাল মাটির টিলা কেটে নিচ্ছে। মাটি কেটে ডাম্প ট্রাক দিয়ে বহন করায় গোড়াই-সখীপুর রোড, পেকুয়া-পাথরঘাটা রোড, হাঁটুভাঙ্গা-আজগানা রোড, তালতলা-বালিয়াজান রোড, মির্জাপুর-টাকিয়াকদমা রোড, হোসেন মার্কেট-টাকিয়াকদমা রোডসহ ২০-২৫টি আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, লাল মাটি কাটায় বাধা দিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিচয়ে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বছর এই মাটি চোর চক্রটি এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তারা কোনো পাত্তা দিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহীনুল ইসলাম এবং আজাগানা বিটের বিট কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় পাহাড় ও পাহাড়ের লাল মাটি রক্ষার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মাটি কেটে নেওয়ার খবর পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয় মাটি কাটা বন্ধসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। অনেক সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ডাম্প ট্রাক জব্দসহ অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, পাহাড়ের লাল মাটি অবৈধভাবে কেটে নেওয়া ও বিক্রির অপরাধে ডাম্প ট্রাকসহ মাটি কাটার যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে মাটি চোর চক্রের সদস্যদের নিকট থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এলাকার পাহাড়, নদী, জলাশয় ও ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে তাদের মোবাইল কোর্ট অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।