মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার প্রকল্পঃ বর্ষার চারা লাগানো হলো শীতে পরিণতি সব মৃত্যু!!

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের মধ্যবর্তী বনাঞ্চল মধুপুর। এখানকার ক্ষতবিক্ষত বনকে আদিরূপে ফিরিয়ে আনতে সরকার গ্রহণ করেছে ‘মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার প্রকল্প’। প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ ছাড়াও নতুন বনায়নে বিদেশি গাছের পরিবর্তে শুধু শাল ও এর সহযোগী বৃক্ষচারা রোপণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বনকর্মীরা বনায়নের নামে বর্ষাকালের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শীতকালে চালু রাখায় বৈরী আবহাওয়ায় মরে যাচ্ছে কচি চারা। এতে সরকারি অর্থের যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি ভুল বনায়নে  ‘শালবন পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, বন মন্ত্রণালয় গত এপ্রিল মাসে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক বিবেচনায় বিদেশি প্রজাতির আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছের  বনায়ন নিষিদ্ধ করে। মন্ত্রণালয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ নামে নতুন ধরনের বনায়নের কথা জানায়। গত মে মাসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের টেলকিতে শাল চারা রোপণ করে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তিনি ঘোষণা দেন, ‘মধুপুরের বিদ্যমান প্রাকৃতিক শাল বন যেমন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে—তেমনি অংশীদারিত্বের সামাজিক বনায়নে কখনোই ক্ষতিকর বিদেশি গাছ রোপণ হবে না। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পর্যায়ক্রমে মধুপুরের ৪৫ হাজার একর শাল বন ফিরিয়ে এনে কার্বনট্রেডের নতুন ধারায় ফিরে যাবে বন বিভাগ’।

এ প্রকল্পকে সার্থক করার জন্য টাঙ্গাইল বন বিভাগ প্রায় চলতি রোপণ মৌসুমে (২০২৫ সালের মে-সেপ্টেম্বর) ১৫ লাখ শাল ও সহযোগী বৃক্ষ চারার  নার্সারি তৈরি করছে। জবরদখলি এবং পতিত বনভূমি পুনরুদ্ধার করে আগামী বৃক্ষরোপণ মৌসুমে (২০২৬ সালের মে-থেকে সেপ্টেম্বর) প্রকল্পের মূল বনায়ন কর্মসূচি চালু হবে বলে ঘোষণা দেয় টাঙ্গাইল বন বিভাগ। তবে চলতি বৃক্ষরোপণ মৌসুমে শালচারার সংকট থাকায় সামাজিক বনায়নের উডলট মডেলের ক্লেয়ারফেলিং করা সাময়িক পতিত বনভূমির দেড় হাজার একরে শুধু শাল সহযোগী দেশী বৃক্ষে বনায়ন করছে।

তবে চলতি বনায়নে বন বিভাগ চারা রোপণের সময়সীমা না মানায় পরিবেশ কর্মীরা  কঠোর সমালোচনা করছেন। পরিবেশ ক্লাব সবুজ দিগন্তের উপদেষ্টা ড. এসকে শাহীন জানান, গত সেপ্টেম্বরে বৃক্ষচারা রোপন মৌসুম শেষ হলেও চলতি জানুয়ারির প্রচণ্ড শীতেও বন বিভাগ বনায়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে কচি চারা ঠান্ডায় মারা যাচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মধুপুর সদর  ও মহিষমারা বিটে গত অক্টাৈবর—নভেম্বরে আনারস ও কলা বাগানের ফাঁকে ৬ হাজার চারা লাগানো হয়। সেসব চারার অধিকাংশই মারা গেছে। জাতীয় সদর উদ্যান রেঞ্জের গাছাবাড়ী বিটের ৬৪৮ দাগের ৬ একর উডলট মডেলের দুটি প্লটে চলতি জানুয়ারি মাসে প্রায় ৫ হাজার বনজ চারা রোপণ করা হয়। সেসব চারার শতকরা ৯৮ ভাগ মারা গেছে।

এ প্লটের অংশীদার হাফিজুর রহমান জানান, গাছাবাড়ী বিট অফিসার আব্দুল কদ্দুসের পীড়াপিড়িতে চলতি শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই  প্রায় আড়াই হাজার চারা লাগান।  শীত আর খরায় সেচ দিয়েও চারা বাঁচানো যায়নি। সার, চারা, বাঁশ ও লেবার খরচে গেছে ৫০ হাজার টাকা। সামনের মে-জুন মাসে প্লটে পুনর্বনায়নে বাড়তি খরচ হবে। অপর অংশীদার মোন্নাফ আলী জানান, বন বিভাগের নির্দেশনা না মানলে প্লট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় গত ডিসেম্বরে এক হেক্টরে আড়াই হাজার চারা লাগান। শীতে সব চারা মারা গেছে। বন বিভাগ এখন বলছে, মে-জুন মাসে তারা চারা সরবরাহ করবেন। সেই চারায় দ্বিতীয় দফায় বনায়ন হবে। এভাবে ভুল বনায়নে  প্রাকৃতিক বন ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হোঁচট খাবে বলে জানান একাধিক প্লট হোল্ডার।

সাবেক প্রধান সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘সাধারণত জলবায়ু ও আবহাওয়াগত কারণে মে-আগষ্ট বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। অক্টোবর-এপ্রিল লালমাটির মধুপুর গড় পানি শুষ্কতায় খাঁ খাঁ করে। এমন রসকষহীন মাটিতে গাছের চারা রোপণ বোকামি। সেচ দিয়েও কচি চারা রক্ষা করা যাবে না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে বনায়ন মানে সরকারি অর্থের অপচয়’। গাছাবাড়ী বিট অফিসার আব্দুল কদ্দুস জানান, উডলট মডেলের বাগান ক্লেয়ার ফেলিংয়ের পর দীর্ঘ দিন বনভূমি পতিত রাখলে জবরদখল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সম্ভাব্য বেদখল ঠেকাতে শীতকালে বনায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সামনের মে-জুন মাসে সরকারি নার্সারির চারায় দ্বিতীয় দফা বনায়ন করে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে। টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, শীতকালে কোনোভাবেই বনায়ন চলে না। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। প্রধান বনসংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, সরকার মধুপুর শাল বনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। ঘটনা সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102