কানে মোবাইল দিয়ে কথা বলতে বলতে হাঁটছেন এক ব্যক্তি। পেছনে দলবেঁধে ছুটছেন একদল লোক। এসময় তাদের কারো কারো হাতে দেখা গেছে এক হাজার টাকার নোট, কারো হাতে পাঁচশ’ টাকা। বলতে শোনা গেছে, ‘টেহা দিসে আমাগোরে (আমাদের টাকা দিয়েছে)।
সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। বলা হচ্ছে, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবিরের অনুসারীরা টাকার বিনিময়ে ভোট কিনতে চাওয়ায় স্থানীয়দের বাধার মুখে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে জামায়াত নেতাদের পাল্টা অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতারা নিজেদের পকেট থেকে টাকা বের করে পরিকল্পিতভাবে এ দৃশ্যপট সৃষ্টি করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় টাঙ্গাইল-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবিরের পক্ষে ভোট চাইতে যান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এসময় সেখানে ছিলেন ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলামসহ আরও অনেকেই। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তারা ওই এলাকায় টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চেয়েছেন। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে এই ঘটনার পর বুধবার বিকেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, ভোট চাইতে দলের নেতাকর্মীরা অর্জুনা এলাকায় গিয়েছিলেন। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা বের করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং জামায়াতের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এই অপপ্রচারের নিন্দা জানাই। এই ঘটনাসহ নেতাকর্মীদের উপর হামলা ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ করে তিনি আরও জানান, উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাধা দেয়। এ সময় অভিযুক্তরা ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীদের মারধর করে গলায় থাকা মাফলার টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেয় এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় তাদের সঙ্গীদের ওপরও আক্রমণ করা হয়।
ভূঞাপুর ওসি সাব্বির রহমান বলেন, এই ঘটনায় এখনও অভিযোগের কপি এখনও হাতে পাইনি। যদি অভিযোগ করা হয়, তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’