টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় ও জেলার সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখের শেষ পর্যন্ত তাদের বহিষ্কার করা হয়।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় গত ২১ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল-১ (মধপুর-ধনবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবালকে বহিষ্কার করেন।
গত ২৬ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে আবদুল হালিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত ১৩ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে, ৫ জানুয়ারি রাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে টাঙ্গাইল জেলার ৬ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাদীউজ্জামান সোহেল, যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, টাঙ্গাইল শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরে আলম সাদেক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান উত্তমকে ও ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেকুল হক সেলিমকে বহিষ্কার করা হয়।
৩১ জানুয়ারি শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীমকে বহিষ্কার করে বিএনপি। সব মিলিয়ে জেলার ১২টি উপজেলার অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল, তাদের কেন্দ্র ও জেলা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”