ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্বাচনী প্রচারণা ততই সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা দিন-রাত ভোটারদের দ্বারেপাশে ছুটে বেড়াচ্ছেন। পথসভা, উঠান বৈঠক, কর্মী সভা, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন তারা। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীর স্ত্রী ও সন্তানরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়ন ও প্রতিশ্রæতির কথা জানাচ্ছেন। এ বছর এই ভিন্ন মাত্রার প্রচারণা ভোটারদের নজর কাড়ছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৫ হাজার ১২৩ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১১ জন। একটি পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নে ১২৭টি ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন (দাড়ি পাল্লা) এবং বাংলাদেশ লিভারেল পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মো. তোফাজ্জল হোসেন (হাতি)। প্রতীক বরাদ্ধের পর তারা নির্বাচনী মাঠে নেমে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন।
বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে ঘুরছেন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে উঠান বৈঠক, কর্মী সভা, পথসভা এবং গণসংযোগের মাধ্যমে ভোট চাইছেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ এবং ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘ দিনের প্রার্থীর অভিজ্ঞতা এবং এলাকার উন্নয়নের অগ্রগতি দেখিয়ে ধানের শীষে বিপুল ভোট আসবে। আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে জনগণ অধীর আগ্রহ নিয়ে ভোট দেবেন এবং ধানের শীষে বিপুল ভোট দিয়ে আমাদের জয় নিশ্চিত করবেন।’
অপর দিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেনও নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তার দলের কর্মী-সমর্থকরা দিন-রাত ঘুরে ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তন চায় এবং দেশের উন্নয়ন চাইলে জামায়াতের বিকল্প নেই। জয়কে অবশ্যই সম্ভাব্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
বাংলাদেশ লিভারেল পার্টির প্রার্থী মো. তোফাজ্জল হোসেনও কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনতে নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দিতে হবে। জনগণ তার পাশে আছেন এবং ভোটের মাধ্যমে এটি প্রমাণ হবে।
নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে মির্জাপুরে একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের ১২৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার ভিডিপির সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ১২৭ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭২৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১৪৫২ জন পুলিং অফিসারকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, ভোটারদের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন।