মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্যাস্ত সময় পার করেছেন টাংগাইলের তাঁতপল্লি

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশে শুরু হয়ে গেছে ঈদ ও পহেলা বৈশাখের কেনাকাটা। এই দুই উৎসবকে কেন্দ্র করে বাহারি ডিজাইন আর নতুনত্ব এসেছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িতে। আর সেই শাড়ি তৈরিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তাঁত শ্রমিকরা। তবে আগের থেকে কমেছে তাঁতের শাড়ির ক্রয়-বিক্রয়। তবুও ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেড় লাখ পিস শাড়ি বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। সবমিলিয়ে চিরচেনা রূপে ফিরেছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি গুলো।

জানা যায়, আর মাত্র ১৩ দিন পরই পবিত্র ঈদ-ঊল ফিতর। তার কয়েকদিন পরই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এই দুই উৎসবে নারী-পুরুষ সবাই নতুন পোশাক পরেন। নারীদের উৎসবের পোশাক মানেই শাড়ি। যেকোনো অনুষ্ঠানেই আবহমান বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। এর মধ্যে আবার টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির প্রতি রয়েছে আলাদা টান। তাই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারো ঈদ ও পহেলা বৈশাখের জন্য টাঙ্গাইল শাড়িতে এসেছে বাহারি ডিজাইন আর নতুনত্ব। নারীদের পছন্দের শাড়ি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁত শ্রমিকরা।

তাঁতের রাজধানী টাঙ্গাইলের পাথরাইল ছাড়াও বাজিতপুর, এলাসিন, করটিয়া, বল্লাসকল তাঁতপল্লিগুলো এখন তাঁতের খটখট শব্দে মুখোরিত। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মেতেছেন কর্মযজ্ঞে। শ্রমিকরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন শাড়ি। এসব শাড়ি ৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তাঁত শ্রমিকরা বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। ব্যস্ততা বাড়লেও বর্তমানে আমাদের মজুরি কম। বর্তমানে আগের তুলনায় আমাদের বিক্রিও কম হচ্ছে।

তাঁত শ্রমিক ফজলুল হক বলেন, একটি শাড়ি তৈরি করতে দুইদিন সময় লাগে। এতে মজুরি পাওয়া যায় ৭০০ টাকা। সপ্তাহে ৪টি শাড়ি তৈরি করতে পারি। আমাদের এতো কম মজুরি দিয়ে সংসার চলে না। তবুও আমরা এ কাজ করছি।

৫৫ বছর ধরে কাজ করছেন অনিক পাল নামের এক শ্রমিক। তিনি বলেন, আমাদের এ কাজের কোনো উন্নতি নেই। একটি শাড়ি তৈরি করলে ৬০০ টাকা মজুরি পাই। আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

ক্রেতা ফারজানা সুলতানা বলেন, অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে টাঙ্গাইলের তাঁতে তৈরি শাড়ির গুণগত মান অনেক ভালো। দেশীয় শাড়ির জন্য আমরা এসেছি। এখানে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। তবে অন্য বছরের তুলনায় দাম এবার কিছুটা বেশি।

ব্যবসায়ী দিপ্ত বলেন, ভারত ও পাকিস্তানি শাড়ির কারণে আমাদের এ ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। এরইমধ্যে আমাদের পাইকারিভাবে শাড়ি বিক্রি শেষ হয়েছে। তবে আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে। আশা করছি এবার ভালো বিক্রি ভালো হবে।

টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক পলাশ চন্দ্র বসাক বলেন, বর্তমানে শাড়ির ব্যবসা খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক নারীই শাড়ি পরা কমিয়ে দিয়েছে। তবুও আশা করছি ঈদ ও বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেড় লাখ পিস শাড়ি বিক্রি হবে। তাঁত শাড়িতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকার কারণে ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শাড়ির বিক্রি বাড়বে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই শাড়ি তৈরি করা হয়েছে। আমাদের এলাকায় বিগত সময়ে টাঙ্গাইল শাড়ির তাঁত ছিল ৫ হাজার। বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৪০০ তাঁত রয়েছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102