টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জ্বালানি তেলের সঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও গাড়ি চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল, যমুনা নদীতে নৌকাচালনা, কৃষকদের বোরো ও চরাঞ্চলের ভূট্টা চাষসহ শাক-সবজির চাষাবাদ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা যমুনাবিধৌত। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। এসব এলাকার চাষীরা পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল না পাওয়ায় ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষকরা ১৫-২০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ও নৌকাযোগে তেলের পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার তেলের পাম্পেই রাত্রিযাপন করছেন।
আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্গম এলাকায় স্কুল-কলেজ ও অফিস করতে হয়। তেল বিতরণের দিন এক থেকে দেড় কিলোমিটার লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র দুই-তিন শ’ টাকার তেল পাচ্ছেন তারা। ফলে সময়মতো কর্মস্থলে যেতেও পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।
ফিলিং স্টেশনে তেলের সঙ্কট থাকলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধ মজুদকৃত তেল জব্দ করা হয়েছে। এর পরেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে চোরাকারবারিদের কাছে থেকে তেল ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে।
গাবসারা ইউনিয়নের যমুনার চরের বাসিন্দা বোরো চাষী আব্দুল হালিম জানান, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে অনেক কষ্ট করে তেলের জন্য আইছি (আসছি)। কিন্তু এহন দেহি (এখন দেখি) পাম্পে ডিজেল নাই। মালিক পক্ষ বলছে কাইল (আগামীকাল) বা পরশু তেল আবো (আসবে)।
মোটরসাইকেল চালক যমুনা কলেজের শিক্ষক আখতার হোসেন খান জানান, প্রতিদিন মোটরসাইকেলে কলেজে যেতে হয়। কিন্তু সময়মতো পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। মোটরসাইকেল রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় গেলে সময় অপচয় ও ব্যয় বেশি হয়।
ভূঞাপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বেলাল হোসেন বলেন, আমরা যে তেল পাচ্ছি, তা উপজেলার একজন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে বিতরণ করে যাচ্ছি। তবে চাহিদার তুলনায় কম পাচ্ছি।