দ. আফ্রিকায় আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের নিকটবর্তী সমো টাউনে এক অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, একজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতের এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচজন এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার একজন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এতে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সরকারিভাবে এখনো নিহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হলেও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা বাংলাদেশিরা বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ছয়জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম (২৯), একই গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদ (২৩), মৃত শরব আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৫৫), আলীরটেক ইউনিয়নের তৈলখিরার চর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (৩০) এবং মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া গ্রামের মৃত সালাম বেপারীর ছেলে মো. রাজিক (৫৫)।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত বাবা আলী মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আগুনে আমার ছেলে ও আরও কয়েকজন মারা গেছে।

আগুন সব কিছু নিয়ে গেছে। এখন তাদের কী অবস্থা, সেটাও ঠিকভাবে জানি না।এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও আগুনের তীব্রতায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও দেশে পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনানুষ্ঠানিক সূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকায় নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দার নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে সরকারিভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা বা নিশ্চিত তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। সরকারিভাবে তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।