টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসায়ী এবং নেশাখোরদের দৌরাত্ম্যে শহীদ মিনারের আশপাশের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। গত সোমবার মধুপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা নিয়মিত কমিটির মাসিক সভায় এমন গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
জানা যায়, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বহু মানুষকে ধরে এনে মধুপুর পৌরশহরের বংশাই নদীর তীরে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষাহিতৈষী ও শিল্পপতি নুরুর রহমান বংশাই নদী তীরে শহীদ স্মৃতি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন গণহত্যাস্থলে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
আশির দশকে শহীদ মিনারের পাশেই মধুপুর আদর্শ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়। মাঠের এক পাশে পাশে নির্মিত হয় একটি স্টেডিয়াম। শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য নির্মিত হয় পাকা সড়ক। ভাষা দিবস, বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস, বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদ ও একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ভেতরে প্রবেশের জন্য একটি গেট রয়েছে।
তবে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবস ছাড়া এ স্থানটি নির্জন ও ফাঁকা অবস্থায় থাকে। আর এ সুযোগটিকে কাজে লাগায় এলাকার মাদকসেবীরা। বিকাল ৫টার পর থেকে এখানে তাদের আনাগোনা শুরু হয়। রাতে রীতিমতো মাদকের হাট বসে।
মধুপুর ইসলামীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মজিদ জানান, মাদকসেবীরা খুবই বেপরোয়া। কাউকেই তোয়াক্কা করে না। দিনের বেলায় অনেক সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে আড্ডা জমায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর এর আশপাশ দিয়ে হাঁটতে ভয় করে। পাশেই শহীদ স্মৃতি কলেজ ও আদর্শ মাদ্রাসা। মাদকসেবীদের বেপরোয়া আচরণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বিব্রত হয়। স্টেডিয়াম পাড়ার বাসিন্দারা জানান, শহীদ মিনার চত্বরে যারা নেশা করে তারা এলাকার নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মধুপুর থানার ওসি আবু জাফর ইকবাল জানান, পুলিশ মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কাজ করছে। কাইকে ছাড় দেওয়া হবে না। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, এখানে যারা মাদক সেবন করে তারা সবাই প্রভাবশালীদের সন্তান। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা এসব নিয়ে মুখ খোলেন না। যে কোনো মূল্যে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের মাদকের ঘাটি নির্মূল করা হবে।