টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল না। তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কী ভূমিকা রেখেছিল তা তারাও জানে, দেশের মানুষও জানে। জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক প্রয়োজনে কখনো বিএনপিকে আবার কখনো আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করেছে।’
গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিয়মকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। তাদের নেতাকর্মীরা পলাতক। তারা যদি রাজনীতিতে থাকত, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকত, তাহলে তারাই হতো মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের কাউকে নির্যাতন করেনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভয়ে পালিয়ে ছিল। এখন সবাই প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। দেশে স্বাভাবিকতা ফেরাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দরকার। তারপরও ভুক্তভোগীরা যে মামলা করছেন, নির্বাচিত হলে আগামীতে মির্জাপুরের শান্তির স্বার্থে এসব মামলার নিষ্পত্তির ব্যাপারে ভূমিকা রাখব, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।
দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন বঞ্চিতরা কষ্ট নিয়ে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি করছেন। তারা তা করতেই পারেন। বিএনপি সাগরের মতো বিশাল রাজনৈতিক দল। এ দলে একাধিক প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। রাজনীতি করতে হলে দলীয় আদর্শ, সিদ্ধান্ত মানতে হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে মনোনয়ন পরিবর্তন করা যায় না। মনোনয়ন পাওয়ার কয়েকটি ধাপ আছে, তা মাঠের রাজনীতির মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।’
এ সময় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদের শিকদার মির্জাপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার পারভেজ শাহ আলম ও আলতাফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফরিদ ও আলম মৃধা, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি কুব্বত আলী মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওয়াজেদ মৃধা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক স্বপন মিয়া, পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব সিয়াম সিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

