টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতিসহ ছয় নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলা জুড়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনা ঝড়।
পদত্যাগকারীরা হলেন- সখিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার, সহসভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজু, সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদল, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ ও বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া।
ছয়জনের পদত্যাগপত্রে একই ধরনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা পদত্যাগপত্রে লিখেছেন বিগত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে দলের সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছি।
বাসাইল-সখিপুর আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ, জনসভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বাসাইল ও সখিপুর উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। করছেন গ্রুপিং।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজুকে তার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি।
অপরদিকে, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক ও ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডলকে আহমেদ আযম খানের হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে জেলার একাধিক স্থানে মানববন্ধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। যদিও অডিও এআই দিয়ে বানিয়ে তাকে ষড়যন্ত্রমূলক ক্ষতি করতে ভাইরাল করা হয়েছে বলে আযম খান জানিয়েছেন।
সদ্য পদত্যাগ করা সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমিসহ এ পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জন পদত্যাগ করেছি। প্রায় দুই শ নেতাকর্মী পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করবেন। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।’
সখিপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, ‘তাদের পদত্যাগের বিষয়টি শুনেছি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা এখনো কোনো কাগজ পাইনি। এটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী আযম খান একজন জাতীয় নেতা এবং স্বচ্ছ ইমেজের মানুষ। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ইনশাআল্লাহ আবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন এবং বিজয় সুনিশ্চিত করবেন।

