মির্জাপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১ সন্তানের জননী প্রবাসীর স্ত্রী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সাব্বির হোসেনের (২৪) বাড়িতে গত দুদিন ধরে অবস্থান করছেন এক সন্তানের জননী সিঙ্গাপুর প্রবাসীর স্ত্রী। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বালিয়াজান গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে তিনি এই অনশন শুরু করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় উৎসুক জনতা সাব্বিরের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী ফারুক হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াজান গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে সাব্বির হোসেনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

গত এক সপ্তাহ আগে ফারুক হোসেন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে আসেন। স্বামী দেশে ফেরার পরপরই গত মঙ্গলবার সকালে ওই নারী নিজের এক সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

ঘটনাটি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে রূপ নিলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং গ্রাম্য মাতবররা বিষয়টি সুরাহার জন্য একটি সালিশি বৈঠকে বসেন। বালিয়াজান গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম শামুদ্দিনের বাড়িতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযুক্ত প্রেমিক সাব্বির হোসেন পলাতক থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফিরোজা বেগম এই বিষয়ে বলেন, “গ্রাম্য মাতবররা আমাকে বৈঠকে ডেকেছিলেন। কিন্তু সাব্বির বাড়িতে না থাকায় কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেয়েটিকে সাব্বিরের মায়ের জিম্মায় রেখে আমরা চলে আসি।”

এদিকে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে ওই দিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

অবস্থানরত ওই নারী দাবি করেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সাব্বির দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। সাব্বির তাকে মির্জাপুর, কালিয়াকৈর, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করেছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, “সাব্বির আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে এখন ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আমি ওর কথায় বিশ্বাস করে আমার স্বামী-সন্তান সব ফেলে এখানে এসেছি। এখন আমার ফিরে যাওয়ার আর কোনো রাস্তা নেই। আমি সাব্বিরের সঙ্গেই বাঁচব, সাব্বিরের সঙ্গেই মরব।”

অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন পলাতক থাকায় এই বিষয়ে তার কিংবা তার পরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Abidur Rahman

Abidur Rahman

This author has not added a biography yet.

1572 Published Posts
View All Posts