টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামে সরকারি রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে পাকা বাথ রুম করেন সংরক্ষিত আসনের ইউপি মেম্বার আয়েশা বেগম। বিভিন্ন প্রত্রিকায় এ খবর প্রকাশের পর প্রশাসনিক চাপের মুখে নতুন ইট বিছিয়ে সেই রাস্তা চলাচলের উপযোগি করেন তিনি।
জানা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি(কাবিটা) মোতাবেক (উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীন সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।
গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম জানান, গ্রামের পাশেই প্যারাজানি বিল কৃষকের খাদ্য ভান্ডার। এখানে সহস্রাধিক একরে বোরো ও রোপা হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখানকার ফসল ঘরে তোলার একমাত্র সড়ক এটি।
এলাকার কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন এ গ্রামীন সড়কটিতে দেড় বছর আগে ইটের সলিং করে। রাস্তা সলিং প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন মির্জাপুর ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম। আর কাজের ঠিকাদার ছিলেন তার স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন।
গ্রামের গৃহবধূ আসমা বেগম জানান, গত মার্চ মাসে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম ও তার স্বামী ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন দুইজনে মিলে দিন দুপুরে রাস্তার সব ইট তুলে বাড়ি নিয়ে যায়।
ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই সলিং করা ইট তুলে নিয়ে খোয়া বানানো হবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন।
গ্রামের প্রবীন আব্দুল জলিল জানান, পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের লোকজন তদন্তে আসেন। তারা ইট শূণ্য রাস্তা দেখে বিস্মিত হন। তারা ওই দম্পতিকে ডেকে আনেন এবং তিন দিনের মধ্যে নতুন ইট বিছিয়ে রাস্তা আগের মতো সচল করার নির্দেশ দিয়ে যান।
গতকাল মঙ্গলবার থেকে ওই ইউপি মেম্বার ও তার ঠিকাদার স্বামী উপস্থিত থেকে লেবার দিয়ে রাস্তায় ইট বিছানো শুরু করেন।
বুধবার (২০ মে) দুপুর হতে রাস্তাটি চলাফেরা ও ছোট যান চলাচলের উপযোগী হয়েছে। এতে গ্রামবাসিরা খুবই খুশি।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, সরকারি হালটের রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে পাকা বাথরুম করা ঠিক হয়নি। এটি ছিল ভুল কাজ। লোক নিন্দা এবং প্রশাসনিক চাপের মুখে ভাটা থেকে চার হাজার নতুন ইট এনে রাস্তায় বিছানো হয়। এখন কৃষকরা সহজেই চলাচল করতে পারছে।
ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, দেশে কতো দুর্নীতি হচ্ছে সাংবাদিকরা সেসব চোখে দেখেনা। গ্রামের হালটের খোয়া যাওয়া সামান্য কিছু ইট নিয়ে নিউজের হেডলাইন বানাচ্ছে। চাপের মুখে তারা নতুন ইটে রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ করে দিয়েছেন বলে জানান।
গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,ওই ইউপি সদস্য ও তার ঠিকাদার স্বামী কৃতকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন এবং রাস্তা পুনরায় সলিং করে দিয়েছেন। তাই আপাদত আর কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।