মির্জাপুরে পরকীয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে পেটানোর অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এক গৃহবধূকেও পেটানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় ওই যুবক ও গৃহবধূকে ঘরের বারান্দায় রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রথম ভিডিওটি পরের দিন শুক্রবার সকাল ১১.৪৯ মিনিটে একটি ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ হয়। এ ছাড়া শুক্রবার সকাল ৯.২৯ মিনিটে লুৎফর অরেঞ্জ নামে আরেকটি আইডিতে বেঁধে রাখার ভিডিও প্রকাশিত হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তিকে ঘরে থাকা আলমারির নিচের দিকের বড় আকারের ড্রয়ারের ভেতর থেকে কয়েকজন টেনে বের করছেন।

তাকে উপস্থিত লোকজন ঘরের মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল–ঘুষি ও লাথি মারছেন এবং বেধড়ক পেটাচ্ছেন।একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হয়। মারধর করা হচ্ছিল গৃহবধূকেও। তিনি সবার কাছে মাফ চাচ্ছিলেন।

কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিকে ঘরের বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়। এরপর তার গায়ে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তবে বয়স্ক এক ব্যক্তি ও এক নারী এসে ওই ব্যক্তিকে না মারার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। তিনি ওই যুবককে একটি গামছা পরিয়ে পাশের কক্ষে নিয়ে যান। একজন আরেকজনকে ঘটনাটি ভালোভাবে ভিডিও করতে বলার শব্দও পাওয়া যায়।
অপরটিতে দেখা যায়, ওই দুজনকে ঘরের বারান্দায় জানালার পাশে একসঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বারান্দার গ্রীলের বাইরে থেকে এক ব্যক্তি টর্চের আলো জ্বালিয়ে রাখছেন এবং অন্যজন বেঁধে রাখার দৃশ্য ভিডিও করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমেই তিনি বিষয়টি জেনেছেন। রাতে ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন দেওয়ান জানান, তিনি এ ধরনের একটি ঘটনার খবর পেয়েছেন। তাকে কোনো পক্ষই কিছু জানানো হয়নি।

মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনায় দোষীরা শাস্তি ও নিরপরাধরা ন্যায়বিচার পাবেন।