মধুপুর বাসস্ট্যান্ড, আনারস চত্বর ও হাসপাতাল মোড় যেন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার দখলে
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরে দিন দিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব অটোরিকশা চলাচল করায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। বিশেষ করে সকাল, দুপুর ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজার এলাকায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের অভাব, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের আনরস চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজার, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট।
ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
সাথী সিনেমা হল রোডের কাজের বেহাল অবস্থা
পথচারীদের অভিযোগ, শহরের অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত ফুটপাত না থাকায় অটোরিকশার ভিড়ের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে চলাচল করেন। আবার সড়কের মাঝখানেই যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে মধুপুর শহরের যানজট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে শহরের স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে কমবে।

