টাঙ্গাইলের বাসাইলে আনিশা আরশী ট্রেডার্স নামক একটি মুরগির খামারে ১৭ হাজার মুরগির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া বাজার সংলগ্ন ওই খামারে ভুল ওষুধ প্রয়োগে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে মানববন্ধন করেছেন খামারের মালিক আলমগীর হোসেন। বুধবার উপজেলার বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে আলমগীর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা, এলাকার খামারি, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে সংবাদকর্মীদের দেয়া বক্তব্যে আলমগীর হোসেন জানান, ৪২ দিন আগে ৫৫ হাজার মুরগি তার খামারে তোলেন। একটি শেডের মুরগি বেশি গ্রোথের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি রেনেটা ফার্মা লিমিটেডের ভেটেনারি শাখার বাসাইল ও সখীপুরের দায়িত্বে থাকা ডা. অদ্বৈত বর্মনের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়। এতে চারটি ওষুধ লিখে দিলে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট লোকেরা ওষুধগুলো আলমগীরের কাছে সরবরাহ করেন। ১৭ই ফেব্রুয়ারি রাতে ওষুধগুলো একটি শেডের মুরগিকে প্রয়োগ করা হলে ওই রাত থেকেই মুরগি মরা শুরু হয় এবং পরের দিন সকাল পর্যন্ত ১২ হাজার মুরগি মারা যায়। আলমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনা মোবাইলে ফোন করে আমি রেনেটা ফার্মার ডাক্তার অদ্বৈত বর্মন ও বিক্রয় প্রতিনিধিকে জানাই। এতে তারা কোনো ব্যবস্থা তো নেয় নাই, আজ পর্যন্তও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নাই। তাদের অবহেলা এবং অতিমুনাফা লাভের ফলে খামারের আরও ৫ হাজার মুরগি মারা যায়। আজ পর্যন্ত তারা খোঁজ নিতে আসেনি। ১৮ই ফেব্রুয়ারি বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। বিষয়টি ২০শে ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু সচোক্ষে দেখে এসেছে। আলমগীর হোসেন আরও অভিযোগ করে বলেন, রেনেটা ফার্মার ডাক্তার ও বিক্রয় প্রতিনিধির অধিক লাভ ও আমার খামারের মুরগির প্রতি অনীহার কারণেই আজ আমি প্রায় ৩৪ লাখ টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছি। আমি দরিদ্র মানুষ। ব্যাংক, এনজিও থেকে লোন নিয়ে আমি এই খামার করেছি। সংশ্লিষ্টরা আমাকে ক্ষতিপূরণ না দিলে আমি এনজিও, ব্যাংকের এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবো না। আমি এই মানববন্ধন থেকে রেনেটা ফার্মার ডাক্তার অদ্বৈত বর্মন ও বিক্রয় প্রতিনিধির বিচার দাবি করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।