টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। টানা কয়েকদিনের ঝড়-বৃষ্টিতে কেটে রাখা ধান জমিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ১০ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শুরু হয়েছে ধান কর্তন। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই কেটে রাখা ধান রোদে শুকাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, গত কয়েকদিন ধরে শুরু হয়েছে বোরো ধান কর্তন। উপজেলার কিছু বিল এলাকার নিচু জমির ধানের ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে ধান নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। যদি টানা বৃষ্টি হয় তাহলে কিছুটা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ঝড়ে উপজেলার বাজিতপুর শ্যামলার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ আছে। সম্প্রতি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক ধান কেটে রোদে শুকাতে জমিতে রেখেছেন। কিছু জায়গায় পালা করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ধানগুলো মাড়াই করা যাচ্ছে না।
কিছু জায়গায় ধান পানির নিচে ডুবে আছে দেখা গেছে। বাজিতপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সেজনু জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের তারের উপরে গাছপালা ভেঙে পড়ে তার ছিড়ে গত তিনদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে এলাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, এবার উপজেলায় ১০ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে কিছু সমস্যা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে এলে চাষিরা ধান কাটা ও মাড়াই আবার শুরু করতে পারবেন। ধনবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মিথুন বিশ্বাস জানান, ঝড়ে ধনবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় গাছপালা পড়ে খুঁটির তার ছিড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে কাজ করে যাচ্ছে।