মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মধুপুরে পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের ৪জন নিহত কেন্দ্রীয় যুবদলের মুন্না-নয়ন পরিষদকে অভিনন্দন জানিয়ে মধুপুরে আনন্দ মিছিল টুংটাং শব্দে মুখর মধুপুরের কামার পল্লী, মজুরী বেশি নেয়ার অভিযোগ গ্রাহকের মধুপুরে গরমে বেরেছে তালের শাঁসের কদর মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মাণে বাঁধা সাধারণ সম্পাদকে হুমকি মধুপুরে অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাংগাইলের ১২টি উপজেলার ৮১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আগামীতে স্বাস্থ্য কার্ডের কথাও ভাবছে সরকার-তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনগণ ভালো থাকলে সরকার ভালো থাকবে মধুপুরে-আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মধুপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মির্জাপুরে খাল খননের নামে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় খাল খননের নামে আবাদি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েক একর জমির কাঁচা ধান, পাট ও তিলখেত নষ্ট হওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের গোড়াকী এলাকায় নাজমুল ইসলাম নামের এক মাটি ব্যবসায়ী এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া কাজ শুরু করেন। এতে এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপজেলার হাট ফতেপুর থেকে মহেড়ার ভাতকুড়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ‘ওমর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কীভাবে খনন করা হবে বা মাটি ব্যবস্থাপনা কী হবে—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে পাট ও তিলখেতের জমি থেকে ১২–১৫ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে।

মাটি বহনের জন্য আবাদি জমির ওপর দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করায় আরো কয়েকটি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

এর আগে খননের কথা বলে ওমর এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় প্রতিনিধি এলাকার মাটি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম তার লোকজন দিয়ে ভাতকুড়া সেতুর নিচ থেকে প্রায় ২০ ফুট প্রস্থে ৯ শতক জমির ধানগাছ কেটে নেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ভাতকুড়া গ্রামের আকবর মিয়া বলেন, ‘নাজমুল আমারে কইল, দুই দিন পরে ভেকু নামবে মাটি কাটার জন্য। ধানডি ক্যাইটা দাও।

বললাম, আমি কাটতে পারবো না। আমি কষ্ট কইরা বুনছি। আমার কইলজা ফাইটা যায়। পারলে তুমি কাটো। বলার দুই ঘণ্টা পরেই লোক নিয়া ধান কাইটা ফেলছে।
এই ৩৫ শতক জায়গায় কমপক্ষে ৩০ মণ ধান হয়। বউ-বাচ্চা নিয়ে চলি। আয় রোজগার নাই। ৮-৯ ডিসিমাল জায়গা কাইটা নিছে। সংসারে ঘাটতি পইরা গেল। একটা স্বপ্ন আছিল। তাও শেষ হয়া গেল।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলফাজ মিয়া বলেন, ‘ফসল নষ্ট করে যেমনে কাটতেছে, তাতে পাবলিক মারার জো করতেছে। যে অবস্থা, বাইরা-বাইরি লাগতে পারে। মানুষের রাগ আছে। কন্ট্রাকটরের ভাত তো আমি খাই না। আমার ভাত আমি খাই। কন্ট্রাকটর সুযোগ পাইছে। ও খাল কাটবো কী? মাটি বেঁইচা টাকা কামানোর ফন্দি করছে।’

গোড়াকী গ্রামের দীনেশ সরকারের স্ত্রী দুর্গা রানী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জমি বর্গা নিয়ে ধান ও পাটের আবাদ করেছেন। মাটি কাটার কারণে পাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

বিপ্লব সরকার নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এগুলা হলো আবাদি জমি। তারা খাল কাটবে, কাটুক। কৃষিজমি তো নষ্ট করার তাদের অধিকার নাই।’

এদিকে উদ্বোধনী দিনে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন মাসে শেষ হবে বলে উল্লেখ করেন টাঙ্গাইলের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও সাইড বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কাজ উদ্বোধনের পর জেলা ড্র্রেজিং ও ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে খনন করা মাটি কীভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রি হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খালের দুই পাশে কিংবা খালের স্থানে আবাদ করা ধান পাকা বা ফসল তোলা পর্যন্ত মাটি কাটার জন্য অপেক্ষা করা হবে। এর আগেই মাটি কাটার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম বলেন, ধানগাছ আমি তুলিনি। তাছাড়া পাট ও তিলখেতের মাটি আমি কাটিনি। ইউএনওর নির্দেশে এলজিইডি অফিস থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে মহেড়ার একটি রাস্তায় ফেলছেন বলে জানান তিনি।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, ‘কৃষকের ক্ষতিপুরণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া আছে। খালের সীমানা পরিমাপের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড করছেন।’

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102