টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত ২০ এপ্রিল বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর গলিত লাশের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত ২০ এপ্রিল বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর গলিত লাশের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিচয় না পাওয়ায় তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপে পোস্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোড়ন। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, ওই নারীকে ধর্ষণের পর পেটের বাচ্চাসহ হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে পুঁতে রাখা হয়েছিল। কিছু পোস্টে বলা হয়, ধর্ষণের একপর্যায়ে গর্ভপাতে শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তাকেসহ মাকে খুন করা হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদেকুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, রিপোর্ট অনুযায়ী ওই নারী ধর্ষণের শিকার হননি। তাকে অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
লাশটি পচে যাওয়ায় ওই নারীর পেট থেকে অস্বাভাবিক গর্ভপাত হয়। এছাড়াও ধর্ষণের পর কোনো নারী প্রসব করলে তখন ধর্ষণের আলামত থাকে না।
অপরদিকে হত্যার বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কেবল ‘ধর্ষণ’-এর তথ্যটিকে ‘বিভ্রান্তিমূলক, বীভৎস ও মনগড়া অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়- নারী ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক, বীভৎস ও মনগড়া অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশের নজরে এসেছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর ওই নারীর লাশ উদ্ধারের সময় অস্বাভাবিক গর্ভপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হত্যা করে বস্তাবন্দি করে পুঁতে রাখা হয়।