মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

মির্জাপুরে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এখনো। এর মধ্যেই মির্জাপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সরগরম হয়ে উঠেছে পাড়া মহল্লা ও রাজনৈতিক অঙ্গন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও গণসংযোগ, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উঠান বৈঠক, মৃত বাড়িতে উপস্থিত থেকে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তারা। সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে; খেলাফত মজলীসের প্রার্থী প্রকৌশলী ইমরান আসাদ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ গোছাচ্ছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতিসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কোনো কোনো প্রার্থী ওয়ার্ড পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার দরিদ্র মানুষের মাঝে নানা উপকরণও বিতরণ করছেন।

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভায় একটি উপনির্বাচনসহ পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবারই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক মেয়রদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান এবং সাহাদত হোসেন মারা গেছেন।

প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনি নির্বাচন থেকে বিরত রয়েছেন। দুইবারের আরেক সাবেক মেয়র সালমা আক্তারও নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করেন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতারা নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আরো পড়ুনঃ

মির্জাপুরে এনসিপির উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন

তবে প্রথমবারের মতো এ পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হতে মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির মধ্যে থেকেই মেয়র নির্বাচিত হবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নির্ধারিত প্রার্থী ঘোষণা না হলেও দলীয় ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। প্রচারণা চালাচ্ছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রকৌশলী ইমরান আসাদ।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকের কয়েকজন বলেছেন, এই পৌরসভায় প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সে অনুযায়ী ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এমন ঘোষণা আসলে তাদের দল থেকে নির্দেশনা পেলে তারা একক প্রার্থী দিতে পারেন। তাদের দলে জনবান্ধব গ্রহণযোগ্য শক্ত নেতৃত্ব রয়েছে। সেক্ষেত্রে পৌরসভার ভোটাররা বিগত দিনের মতো আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা দিন দিন দল ও এলাকায় যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। কে দলীয় প্রার্থী হতে পারেন, কাকে দিলে বিজয়ী হওয়া সহজ হবে এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে।

মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন মির্জাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক জিএস ও ভিপি হযরত আলী মিঞা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক এজিএস এস এম মহসীন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সদর ওয়ার্ডের চারবারের কাউন্সিলর আলী আজম সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির দুই সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসলাম ফরিদ ও মো. আলম মৃধা এবং ডা. মো. আল আমিন উজ্জল।

মির্জাপুর পৌসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ হাজার ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে প্রায় ৭ হাজার হিন্দু সম্প্রদায় এবং প্রায় ৩ হাজার ভাসমান ভোটার বসবাস করেন বলে জানা গেছে।