মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
টুংটাং শব্দে মুখর মধুপুরের কামার পল্লী, মজুরী বেশি নেয়ার অভিযোগ গ্রাহকের মধুপুরে গরমে বেরেছে তালের শাঁসের কদর মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ভবন নির্মাণে বাঁধা সাধারণ সম্পাদকে হুমকি মধুপুরে অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত টাংগাইলের ১২টি উপজেলার ৮১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আগামীতে স্বাস্থ্য কার্ডের কথাও ভাবছে সরকার-তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনগণ ভালো থাকলে সরকার ভালো থাকবে মধুপুরে-আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মধুপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের বাড়ি নির্মাণে বাধা,১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি:মালামাল লুট ঘাটাইলে চাপড়ীতে যাতায়াতের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা, ৯০টি পরিবার অবরুদ্ধ

বাংলাদেশের পরম বন্ধু কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের পরম বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে সময় তিনি ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের নিয়ে কবিতা ও গান লিখেছেন। শুধু তাই নয়, শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন। যদিও তার দেশের সরকার আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘোর বিরোধী ছিল। তারা শত্রপক্ষ পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন করে আসছিলো। আর এই দেশের মানুষ হয়ে সরকারের বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে সমর্থন জুগিয়ে গেছেন এই কবি।

এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ। আজ এই মহান মানুষটির জন্মদিন। তিনি ১৯২৬ সালের ৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, লেখক, গীতিকার এবং মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিরাট সমর্থক ও সহায়তাকারী।

গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতীয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘুরে বেরিয়েছিলেন। এসময় যশোরের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিখ্যাত ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতাটি লেখেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে বন্ধু বব ডিলান ও অন্যদের সহায়তায় এই কবিতাটিকে তিনি গানে রূপ দিয়েছিলেন। কনসার্টে এই গান গেয়ে গেয়ে এই দুই কবি বাংলাদেশি শরণার্থীদের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।

তিনি ১৯৫০-এর দশকের বিট প্রজন্ম এবং বিপরীত সংস্কৃতি আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তিনি সামরিকতন্ত্র, অর্থনৈতিক বস্তুবাদ এবং যৌন নিপীড়নের ঘোর বিরোধী ছিলেন।

প্রথম জীবনে গিন্সবার্গ তার ‘হাউল’(১৯৫৬) মহাকাব্যের জন্য সর্বাধিক পরিচিতি পান, যেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে নিন্দা করেন। এই কবিতাটি লিখেছিলেন তার বিট প্রজন্মের বন্ধুদের বরণ করে নিয়ে এবং বস্তুবাদের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে আক্রমণ করে।

তিনি ছিলেন সমকামী ধারণার একজন বড় সমর্থক। এজন্য নিজের জীবদ্দশায় তাকে অনেক সমালোচনা ও নিন্দা সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও তিনি সমকামীদের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। সমকামীদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় সারাজীবন আন্দোলন করেছেন। তিনি সমকামীতার সপক্ষে অনেক কবিতাও লিখেছেন। সমকামী বিয়েতে উৎসাহ জোগাতে তিনি তার বন্ধু কবি পিটার অরলোভস্কিকে বিয়ে করেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সমকামী লেখক ও কবিরা সমকামিতা নিয়ে প্রাকাশ্যে কথা বলার সাহস পেয়েছে। আর তাদের অগ্রপথিক ছিলেন গিন্সবার্গ।

অ্যালেন গিন্সবার্গ ভারতবর্ষে থাকাকালীন সর্বাধিক সময় কাটিয়েছিলেন কলকাতায়। ১৯৬২-১৯৬৩ সালে তিনি পশ্চিমবাংলার কবিদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তার সঙ্গে হাংরি আন্দোলনের কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও মলয় রায়চৌধুরীর হৃদ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি আমেরিকায় ফিরে গিয়ে হাংরি আন্দোলনের কবিদের রচনা সেখানকার প্রখ্যাত পত্রিকাগুলিতে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন। অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘হাউল’ এবং ‘ক্যাডিশ’ বাংলায় অনুবাদ করেছেন মলয় রায় চৌধুরী।

এই মানবতাবাদী কবি ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল মারা যান।

এমএ/

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102