নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব বলেছেন, আমাদের অত্যন্ত সৌভাগ্য যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন আপসহীন নেত্রী পেয়েছি। মায়ের মতো এই নেত্রী কোনো দিন অসত্য ও স্বৈরাচারের সঙ্গে আপস করেননি।
মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের মসদই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৭তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া লোভ-লালসার ওপরে উঠে সারা জীবন দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন।
শত বিপদেও তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ আমার ঠিকানা, এ দেশের মানুষ আমার ভাই-আমার বোন। জেল খেটেছেন কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। আমরা গর্ববোধ করি আমাদের নেত্রীকে নিয়ে। তিনি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই বয়সেও জেল খেটেছেন।
ফরমায়েশি রায়ে পতিত স্বৈরাচারী সরকার তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। তারপরও তিনি আপস করেননি। তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।’সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এই দীর্ঘ সময়ে আমরা যে লড়াই-সংগ্রাম ও আন্দোলন করেছি। যারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামকে এক-দুই দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল বলে হাইজ্যাক করতে চাচ্ছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ফরমায়েশি রায়ে জেল খেটেছেন। তিনি তার অনেক সন্তান হারিয়েছেন, ইলিয়াস আলীসহ দলের শত শত নেতা গুম হয়েছেন, শত শত নেতা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, লাখ লাখ নেতাকর্মী মামলা খেয়েছেন।’বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১/১১-এর সময়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশে থেকেও তিনি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।
সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। আজকে যারা বলেন, এই আন্দোলন দু-এক দিনেই হয়ে গেছে। তারা একটু ভালো করে চিন্তা করবেন।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আরব আমিরাত বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম খান, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি আব্দুল বাসেদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খান ছিটু, মির্জাপুর পৌর বিএনপির সহসভাপতি সোহরাব হোসেন ও খন্দকার মোবারক হোসেন, পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক মান্নান খান মান্না, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান শপথ প্রমুখ। পরে প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।