স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লৌহজং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়নি

ভূঞাপুরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লৌহজং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়নি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লৌহজং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়নি। দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ছোট্ট একটি খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে মানুষ। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ৭ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। স্থানীয়রা দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

জানা যায়, উপজেলার জুয়াদ আলী মোড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনার শাখা নদী লৌহজং। লৌহজং নদীর উত্তর পাশে রামপুর, গোপিনাথপুর, রায়ের বাসালিয়া, খন্দকার পাড়া, ভূঁইয়া পাড়াসহ ৬-৭টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। শাখা নদীটির দু’পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর ওপর নেই ব্রিজ। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছোট্ট খেয়া নৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকায়। অনেক সময় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার অসুস্থ রোগীদের নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। রাতের বেলা অনেক সময় নৌকায় মাঝি না থাকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে পার হন অনেকে।

ব্রিজের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়েও দিতে পারছেন না অনেকে। ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার অযুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায় বর ও কনে পক্ষের লোকজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজ না থাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছোট খেয়া নৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষসহ হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। অনেক সময় খেয়া নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ।

স্থানীয়রা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অনেক এমপি ও জনপ্রতিনিধি শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, কেউ এই ব্রিজটি করে দেননি। শুধু বলেই ব্রিজ করে দিমু, কিন্তু এই ব্রিজ করে দেয় না। এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়নি। যার ফলে আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দীন ও বশির মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা খেয়া নৌকা দিয়ে উপজেলা শহর ও হাট বাজারে যাতায়াত করি। নৌকায় ফসল পারাপার করতে আমাদের বেশি কষ্ট হয়। এছাড়াও আমাদের সন্তানরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করে। ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকাটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।

খন্দকার পাড়ার আব্দুর রশিদ ও হানিফ আলী বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের সঙ্গে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। সময় মতো আমরা হাসপাতালে যেতে পারি না। নৌকা দিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন আমাদের শিশু ও মা-বোনেরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, সরেজমিনে আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এখানে একটি ব্রিজ অতি জরুরি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ওখানে ব্রিজ করলে টেকসই হবে কি না তা আমরা যাচাই বাছাই করছি। যাচাই বাছাই করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।