নিজস্ব প্রতিনিধিঃ র্যাব পরিচয়ে চাঁদা নিতে আসা অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খান (৪৫) ওরফে সোহেল রানার নামে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছে। মো. আমিনুর সিকদার নামের এক ব্যক্তি মির্জাপুর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামি হলেন, উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন।
এর আগে রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খানকে মির্জাপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খান রবিবার বিকেলে একটি গুম ও হত্যা মামলার তদন্তের নাম করে উপজেলার তরফপুর চকবাজার এলাকায় যান। একপর্যায়ে তিনি কৌশলে মামলার আসামির কাছে চাঁদা দাবি করেন।
এ বিষয়ে তরফপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ার বলেন, কয়েকদিন পূর্বে প্রতারক অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খান র্যাব পরিচয় দিয়ে মোবাইলফোনে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে টাকা দাবি করেন। রবিবার টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় আনা হয়।
মামলার অন্য আসামি বিল্লাল হোসেন বলেন, ৫/৬ বছর আগে পরকীয়া করে টাকিয়া কদমা উত্তরপাড়া গ্রামের ইনছ আলীর স্ত্রী রওশন আরা বেগম গর্ভবতী হন। তারপর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। রওশন আরা আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে খুন করা হয়েছে এ বিষয়টি তখন আলোচনায় ছিল। এছাড়া উত্তরকদমা তেতুলা বিলে দুলালের স্ত্রীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল পাওয়া যায়। ঘটনা দুটি অমীমাংসিত থাকায় হানিফ খান র্যাব সদস্য পরিচয় দেওয়ায় তাকে ঘটনা দুটি তদন্তের জন্য ইনফরমেশন দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জনতার হাতে আটক র্যাবের সদস্য পরিচয় দেওয়া হানিফ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

