আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছে পুলিশ, স্থানীয় ব্যক্তি ও লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠজনরা। লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িটি নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফরম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। তবে তিনি সেখানে ছিলেন না। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া আলোচনাসভায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরেই মিছিল নিয়ে একদল ব্যক্তি ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। একপর্যায়ে তারা গোলটেবিল বৈঠকের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১৬ জনকে আটক করে।
এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
৪০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভবনটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করছে। ফেসবুকে অগ্নিদগ্ধ একটি ভবনের ভিডিও ছড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকীর নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব।এ বিষয়ে লতিফ সিদ্দিকীর ছোটভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের একান্ত সচিব ফরিদ আহমেদ জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা কালিহাতী বা টাঙ্গাইলে ঘটেনি।
এটি সম্পূর্ণ গুজব—অন্য কেউ ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী লতিফ সিদ্দিকীর বাড়ির নিরাপত্তা দিচ্ছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে আগুনের ঘটনাটি পুরোই গুজব। তবে লতিফ সিদ্দিকীর বাড়ির নিরাপত্তায় আমাদের পুলিশের নজরদারি রয়েছে।’