টাঙ্গাইলে প্রাক্তন শাশুড়িকে হত্যার অপরাধে জামাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের স্পেশাল আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা রবিবার দুপুরে এই রায় দেন।
দণ্ডিত ব্যক্তির নাম রেজাউল করিম দুলু (৪৫)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার তেলিয়ান পাড়া গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে।
তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। এরা হচ্ছেন- তোতা মিয়া, আবুল কালাম, মিলন মিয়া, ছামাদ মন্ডল ও আজিজুল হক।
স্পেশাল জজ আদালতের সরকারি কৌশলী শাহজাহান কবীর বলেন, দণ্ডিত রেজাউল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বুড়াকুড়ি গ্রামের নূর হাইয়ের মেয়ে নূরুন্নাহারকে বিয়ে করেন।
কিন্তু পারিবারিক বিরোধের কারণে নুরুন্নাহার রেজাউলকে তালাক দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল ২০০৬ সালের ২৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নূরুন্নাহারের বাবার বাড়ি গিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন। এসময় নূরুন্নারের মা রাবেয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে কালিয়াতুড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত নূরুন্নাহারকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর দিন নিহত রাবেয়া বেগমের স্বামী নূর হাই বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ আদেশ দেন। দণ্ডিত রেজাউল গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে জামিন পেয়ে পলাতক রয়েছেন।