মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, কেউ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে তা দেওয়া যাবে না। দলের কেউ এ ধরনের কাজ করলে বিষয়টি জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া স্কুল মাঠে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান’ উপলক্ষে আয়োজিত সচেতনতা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরো পড়ুনঃ যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী টুকু
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। কোনো নেতা কার্ড করে দেবেন—বিষয়টি এমন নয়। সরকারিভাবেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সারাদেশে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারাই তথ্য সংগ্রহ করবেন। কেউ বাদ পড়লে বিষয়টি জানাতে হবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে যে পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন হয়, তার প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণের সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বর্তমানে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতার পরিমাণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। গত বছর কেউ সহযোগিতা পেয়েছেন, কেউ পাননি। তবে এবার সবাই সহযোগিতা পাবেন।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এ চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প পাস হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য পর্যটনকেন্দ্র করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সেলিম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক (চ.দা.) মো. আহসান হাসিব খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সালমুন হাসান বিপ্লব, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহেল আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় কাকুয়া ইউনিয়নের ২৪৯ জেলে পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
পরে ওমরপুর ব্রিজ-সংলগ্ন নদীতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

