মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইলের ডা. আব্দুল হামিদের কাছে দুর্গম পাহাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন আদিবাসীরা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে অন্যতম। সুস্থ থাকতে চিকিৎসা নিতে মানুষ দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়ায়। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে সুচিকিৎসার তাগিদে গ্রামে বসবাসরত মানুষও শহরে ছুটে আসে। কিন্ত শহর এবং গ্রামীণ জনপদের বাইরে চিন্তা করলে দুর্গম পাহাড়ের জনপদ বাসীদের জন্য সুচিকিৎসা অত্যন্ত দূস্কর বিষয়।
তেমনি এক দুষ্কর বিষয়কে সহজলভ্য করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন টাঙ্গাইলের ডা. আবদুল হামিদ।তাইতো সহস্র কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে দুর্গম পাহাড় অতিক্রম করে ছুটে আসছেন ধলেশ্বরী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. আবদুল হামিদের কাছে।
সরজমিনে গিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা সবাই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত।এমন একজন হলেন চাকমা সম্প্রদায়ের শ্যামল। যিনি নিয়োজিত আছেন শিক্ষকতা পেশায়।চিকিৎসা করাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ছুটে এসেছেন।এতো দূরের পথ অতিক্রম করে রাজধানী ঢাকার নামীদামী হাসপাতাল ছেড়ে টাঙ্গাইলে কেন চিকিৎসা করাতে এসেছেন? জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আব্দুল হামিদ স্যার রাঙামাটিতে আদিবাসী ও সেখানে বসবাসরত বাঙালিদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে রাবেতাহ আলমে ইসলামীতে অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করেছেন।তিনি জানান,বিশেষ করে আমরা আদিবাসীরা তার কাছ থেকে অনেক সুযোগ সুবিধা,বিন্যামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে থাকি।
তিনি আরও জানান,ধলেশ্বরী হাসপাতালে আমাদের আদিবাসীদের জন্য আলাদা একটা ওয়ার্ড আছে।এইখানে আমরা রান্না করা,থাকা খাওয়া সকল সুবিধা পাচ্ছি যা আমরা অন্য কোথাও আমরা পাবো না।
বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে স্ত্রীর অপারেশন করাতে আসা বিধান চাকমা বলেন,আমার স্ত্রীর জরায়ু অপারেশনের জন্য এতো দূর থেকে এসেছি।আবদুল হামিদ স্যার এর কথা লোকমুখে আমাদের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অনেক শুনেছি।কিন্তু বাস্তবে এবার প্রমাণ পেলাম।
খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলা থেকে মায়ের চিকিৎসা করাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী হেলাল হোসেন জানান,দিঘীনালা উপজেলার পার্শ্ববর্তী উপজেলার লংগদু উপজেলায় রাবেতাহ হাসপাতালে দীর্ঘদিন উনি মানুষের চিকিৎসা করেছেন।সেখানে তিনি আদিবাসী এবং বাঙালি মানুষের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল,কলেজ,স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। উনার হাত ধরেই সেখানে সাস্থ্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল-পরিবর্তন এসেছে যার সুযোগ সুবিধা মানুষ এখন পর্যন্ত পেয়ে যাচ্ছে। তার সুনাম এবং চিকিৎসা সেবার মান ভালো হওয়ায় দিঘীনালা থেকে মায়ের চিকিৎসা করাতে ধলেশ্বরী হাসপাতালে এসেছি। এর আগেও আমার মাকে নিয়ে নিয়েছিলাম।এবারোও আমার মাকে অপারেশন করাতে নিয়ে এসেছি। মূলত বিশ্বাসের কারণেই টাঙ্গাইলেই ছুটে আসা। আমরা তার চিকিৎসার মান নিয়েও সন্তুষ্ট বিধায় এখানে আবার চলে এসেছি। তিনি আরো  জানান,হাসপাতালের পক্ষ থেকেও দূর থেকে আসা গরীব অসহায় মানুষদেরও সহযোগিতা করা হয় বিধায় এতো দূর থেকে আমরা এখানে এসেছি।
এ বিষয়ে ধলেশ্বরী হাসপাতালের পরিচালক ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয়ের ব্যবস্থাপনায় আমাদের এখানে নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড রয়েছে যা শুধু উপজাতিদের জন্য বরাদ্দকৃত। আমরা ব্যবসা নয়  সুচিকিৎসা সেবা দিয়ে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102