মধুপুরের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

সখীপুরে জীবিত বাবাকে মৃত দেখিয়ে সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছে ছেলে

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০২৪
  • ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জীবিত বাবাকে মৃত দেখিয়ে সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছেন ছেলে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বোনেরা। অভিনব এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী ইন্নছ নগর গ্রামে।

লিখিত অভিযোগ ও সরজমিনে জানা যায়, বাবা দানেছ আলী এখনও বেঁচে আছেন, তাঁর বয়স ৯২ বছর। কিন্তু কাগজে-কলমে তিনি মৃত। দানেছ আলীকে মৃত দেখিয়ে ৫ বছর আগে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম কাটা হয়। শুধু যে নাম কাটা হয়েছে তা নয়, তাঁর নামে কোনো সম্পত্তিও নেই। অভিযোগ উঠেছে, দানেছ আলীর একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরা কে ছয়ফর ফকির তাঁর বোনদেরকে বঞ্চিত করে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে বাবাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেন।

নির্বাচনের কমিশনের নথিতে দেখা যায়, দানেছ আলীকে বিগত ২০১০ সালে মৃত হিসেবে দেখিয়ে ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার আবেদন করেন তাঁর ছেলে সাইফুল। আবেদনের নথিতে সাইফুলের নাম থাকলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

জানা গেছে, সাইফুল ছাড়া দানেছ আলীর আর কোনো ছেলে নেই। তাঁর সাত মেয়ে আছে। নির্বাচন কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী বিগত ২০১০ সালের (৫ ফেব্রুয়ারি) দানেছ আলীর মৃত্যু হয়েছে। কাগজে-কলমে মৃত হওয়ায় দানেছ আলীর সমস্ত জমি বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ডে একমাত্র ছেলে সাইফুলের নামে। এদিকে বিগত ২০১১ সালে ৪৯ শতাংশ জমি বিক্রি করেন দানেছ আলী। গত (১৭ মার্চ) ওই জমি খারিজ করতে গেলে ভূমি কার্যালয় খেকে জানানো হয়, দানেছ আলী মারা গেছেন বিগত ২০১০ সালে, সব সম্পত্তি সাইফুলের নামে। উল্টো জমির ক্রেতারা প্রশ্নের সম্মুখীন হন, মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কীভাবে জমি কিনলেন। এ নিয়ে তোলপাড় হলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পরদিন তাঁর মেয়েরা লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা থেকে বাবার নাম কর্তনের বিষয়টি আমি জানি না। কেউ হয়তো শত্রুতাবশত আমার নাম ব্যবহার করে আবেদন করেছেন। আমার বাবা এখনো জীবিত রয়েছেন। নতুন রেকর্ডে বাবার জমি কীভাবে আপনার নামে গেল? এ প্রশ্নের জবাবে সাইফুল বলেন, ভুলবশত আমার নাম উঠে থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

ভোটার হালনাগাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্দারজানী গ্রামের হাজী আজহার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিউটি আক্তার বলেন, বিগত ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহের সময় দানেছ আলীর ছেলে সাইফুল আমাকে তাঁর বাবার মৃত্যু সনদ দেখিয়েছেন।

সাইফুল নিজেই বলেছেন, তাঁর বাবা বিগত ২০১০ সালে মারা গেছেন। ছেলের দেয়া তথ্য ও মৃত্যু সনদ অনুযায়ী আমি নির্বাচন অফিসে তথ্য জমা দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।

সখীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, জীবিত ব্যক্তির ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগপত্রটি এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

The Trend (Online Shop)

©২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়)
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102