এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে টাঙ্গাইলে ৬টি স্কুল-মাদরাসার একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। র মধ্যে দুটি এমপিওভুক্ত ও ৪টি ননএমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ফলাফল প্রকাশের পর সন্ধ্যায় জেলা শিক্ষা অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষকদের অবহেলা এবং নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বিএম দাখিল মাদরাসা, নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও আগাডিঘুলিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর বহুমুখী দাখিল মাদরাসা, ঘাটাইল উপজেলার মনতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা।
জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯.০৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে- ২ হাজার ১৭৩। ৪৬ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ হাজার ৪৭৬ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর মধ্যে এসএসসিতে ৬১.৩৮ শতাংশ, দাখিলে পাশের হার ৫২.৮৩ শতাংশ, এসএসসি ভোকেশনালে ৫১.৮২ এবং দাখিল ভোকেশনালে ২৮.৫৭ শতাংশ।
মির্জাপুরের তরফপুর দারুস সুন্নাহ বহুমুখী দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট রেজাউল করিম বলেন, ফলাফল ভালো হবে এই আশায় ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম কেউই পাস করেনি তখন আর ভালো থাকতে পারলাম না। খুব শিগগিরই অভিভাবক সমাবেশ করা হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো ফলাফল করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হায়দার বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করা বা শূন্য পাসের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। শূন্য পাসের মাদরাসাটিসহ যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে, সেগুলোকে বিশেষ প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদকে কারণ দর্শানোর প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, নিঃসন্দেহে ৩টি পক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। বিশেষ করে যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তারা তো সরকার থেকেই সব সুবিধা পায়। এক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। ভালো শিক্ষার্থী না পেলেও ৫টি বছর পড়ানোর পর শিক্ষার্থীদের উন্নতি হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, এর দায় শিক্ষকরা এড়াতে পারে না। সবচেয়ে বেশি দায়ভার শিক্ষকদের নিতে হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আমরা ডাকবো এবং কারণ দর্শানো নোটিশ দেবো। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মূলত কী কারণে ফল বিপর্যয় তা আমরা শুনবো। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

