টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় টাকা ধার না পেয়ে নানীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে নাতি নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নাতি নয়ন কোচকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত বেদেনা কোচ (৬৫) উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়া এলাকার পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নয়ন কোচ মঙ্গলবার বিকেলে তার নানীর কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নয়ন কোচ রাতেই হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাত ৯টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ কালিদাস বাজারে গেলে সুযোগে নয়ন কোচ নানীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে বেদেনা কোচের মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর বিছানার ওপর রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন পরেশ চন্দ্র কোচ। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে বুধবার সকাল ৮টার দিকে সখীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং স্থানীয় শ্যামল কোচের ছেলে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন কোচ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নানী তার সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করতেন।
সখীপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান। পরে তাকে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।