টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় দুই মাথা, চার হাত ও চার পা বিশিষ্ট এক শিশুর জন্ম হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার শিরিন শহীদ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নবজাতকটি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিঘলআটা সওদাগর পাড়া গ্রামের সাগর ও নুপুর দম্পতির সন্তান। জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুটিকে একনজর দেখতে হাসপাতালে ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খায়ের বাশার জানান, এটি বিশেষ ধরনের যমজ শিশু। শিশুটির শরীরের বাইরের অংশ জোড়া লাগানো রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদা কি না, তা জানতে প্রয়োজন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের জটিল চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
অন্যদিকে, শিরিন শহীদ হাসপাতালের পরিচালক জানান, তাঁদের হাসপাতালেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়েছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, শিশুটির স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নবজাতকের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো তাঁরা এমন শিশুর জন্মের ঘটনা দেখেছেন। পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় নবজাতকের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

